নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জে এখন রাজনৈতিক মঞ্চ নয়—চলছে চরিত্র বদলের ম্যাজিক শো।
যার কেন্দ্রবিন্দু মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
বিগত মাস পর্যন্ত তিনি ছিলেন মাসুদুজ্জামান মাসুদের সবচেয়ে কঠোর সমালোচক।
তিনি তাকে কখনো ‘ওসমানদের দোসর’, কখনো ‘ফ্যাসিবাদের দালাল’, আবার কখনো
‘অর্থের গর্বে অন্ধ গডফাদার’ বলে চিহ্নিত করতেন। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে আল্লাহর কাছে বিচার চেয়েছিলেন—
এতটাই ক্ষোভ ছিল মাসুদকে ঘিরে।
কিন্তু রাজনীতির বাতাস নাকি কখনোই স্থির থাকে না।
মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে সেই টিপুই এখন মাসুদের জিন্দাবাদ বলে চেঁচান!
মনোনয়ন ঘোষণায় চরিত্র বদলের ঝড়
৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ–৫ আসনে বিএনপি প্রাথমিকভাবে মাসুদুজ্জামানকে মনোনীত করে।
এই ঘোষণার পরেই যাদের নিয়ে ঐক্যমঞ্চ—
সাবেক এমপি আবুল কালাম, মহানগর আহ্বায়ক সাখাওয়াত, সদস্য সচিব টিপু, নেতা বাবুল—সবাই একবাক্যে দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলার কথা বললেও সবচেয়ে বেশি চিৎকার ছিলেন টিপুই।
মনোনয়ন বঞ্চিতদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বারবার বলেছিলেন: “মাসুদের মনোনয়ন বাতিল করতে হবে!”
“তিনি আওয়ামী লীগের দোসর!”
“তিনি কালো টাকার মালিক!”
“তিনি ওসমান পরিবারের ছায়াতলে থাকা ব্যবসায়ী!”
কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগেই—ঐক্যমঞ্চের মাটি থেকে পা তুলেই টিপু সোজা গিয়ে উঠলেন সেই ‘দোসর’-এর হাত ধরতে।
ফেসবুক স্ট্যাটাস: কঠোর সমালোচক থেকে হঠাৎ আজ্ঞাবহ সৈনিক
চমকের দ্বিতীয় ধাপ আসে টিপুর নিজের ফেসবুক পোস্টে।
যেখানে তিনি ইঙ্গিত দেন—দল যাকে প্রার্থী করেছে, তিনিও তার পক্ষে কাজ করবেন!
অর্থাৎ যাকে কাল ফ্যাসিবাদের দালাল বলেছিলেন, আজ তার জন্য ভোট চাইতে প্রস্তুত !
রাজনীতি বুঝে যারা হাসছেন, তাদের প্রশ্ন—
দল বদলায়নি, বদলে গেলেন টিপু !
নাকি মাসুদের ‘মোট অংকের শক্তি’র কাছে নীতির দেয়াল ভেঙে গেছে ?
মতবিনিময় সভায় নাটকীয় অনুপস্থিতি–উপস্থিতি
হোসিয়ারী অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভায় মাসুদ নিজে আসেননি।
মজার বিষয় হলো—ঐক্যমঞ্চের অন্য হেভিওয়েট নেতারাও উপস্থিত হননি।
কিন্তু টিপু হাজির !
এবং বললেন—“সবাই আসুন, দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিন। মাসুদ ভাই, আপনি ভয় পাবেন না!”
হাস্যরসাত্মক রাজনীতিপ্রেমীদের প্রশ্ন—
যাকে দেখে এতদিন টিপুই ভয় পেতেন,
এখন সেই মাসুদকে টিপুই উল্টো সাহস দিচ্ছেন কেন ?
টক অব দা টাউন: ‘সবাই ম্যানেজ’ না ‘হঠাৎ পবিত্রতা অর্জন’?
রাজনীতি বোঝেন এমন তৃণমূল কর্মীদের মুখে এখন একই কথা—“মাসুদের টাকার অংকেই সব ম্যানেজ।
যারা ছিলেন গাট্টাগোট্টা সমালোচক,
আজ তারা সবাই মাসুদের বগলদাবা!”
সবচেয়ে বেশি কৌতুক তৈরি করেছে টিপুর ভূমিকাই।
তৃণমূলের প্রশ্ন—যাকে ‘ওসমান ও ফ্যাসিস্টদের দোসর’ বলতেন, আজ সেই দোসরের হাতই টিপু এত আঁকড়ে ধরলেন কেন ?
নাকি এক রাতেই মাসুদ নিজের ‘ফ্যাসিস্ট-দোসর’ তকমা গায়ে থেকে ধুয়ে ফেললেন ?
নাকি টিপুই নিজের বক্তব্যগুলো ওয়াশিং মেশিনে ভিজিয়ে নিয়ে এসেছেন ?
শেষ কথা: নারায়ণগঞ্জে এখন রাজনীতি নয়, কমেডি সিরিয়াল চলছে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কথাই ঘুরছে—“যে টিপু কাল মাসুদকে গালি দিতেন,
আজ সেই টিপুই শ্যাম মাসুদের বগলদাবা!”
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এর চেয়ে বড় তামাশা ইদানীং কেউ দেখেনি।
কেউ বলছেন—এটি নীতির মৃত্যু,
কেউ বলছেন—টাকার জয়ের উদাহরণ,
আর অনেকেই বলছেন—
“এটাই টিপুর আসল চরিত্র—হাওয়া যেদিকে, তিনি সেদিকেই।”









Discussion about this post