নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলা যেন এক দশক ধরে অদৃশ্য কোনো প্রভাবের কাছে বন্দি। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ১২ বছর পার হলেও অভিযোগপত্র এখনো আদালতে জমা হয়নি। দীর্ঘদিনের এই অযথা বিলম্বে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আদালতও। বৃহস্পতিবার দুপুরে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন তদন্ত কর্মকর্তাকে অভিযোগপত্র দ্রুত দাখিলের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে গত ১৪ আগস্ট র্যাব–১১–এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা দীপক চন্দ্র মজুমদারকে সরাসরি আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে র্যাব–১১ অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য সময় চেয়ে লিখিত আবেদন করে—যা ইতিমধ্যে এই মামলার তদন্ত গতি নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
১২ বছরের তদন্ত, কিন্তু অগ্রগতি শূন্য !
২০১৩ সালের ৬ মার্চ নিখোঁজ হওয়ার দু’দিন পর কুমুদিনী খালে ত্বকীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকে এই মামলাটি আলোচনায় থাকলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। আইনজীবী প্রদীপ ঘোষের ভাষায়, “এত বছরেও অভিযোগপত্র না দেওয়া তদন্ত সংস্থার অস্বাভাবিক উদাসীনতা ও রহস্যজনক গড়িমসিরই প্রমাণ ।”
তিনি বলেন, বাদীপক্ষ বারবার জোর দাবি জানানোয় আদালত অবশেষে তদন্ত কর্মকর্তাকে কঠোরভাবে তাগিদ দিতে বাধ্য হয়েছে।
আসামিরা হাজির, তদন্তপত্রের কোনো হদিস নেই
আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী তায়েব উদ্দিন, মামুন মিয়া, ইয়ার মোহাম্মদ পারভেজ, রিফাত বিন ওসমান, শাফায়েত হোসেন, কাজল হাওলাদার ও গাড়িচালক জামশেদ চৌধুরী আদালতে হাজিরা দেন। আরও এক আসামি ইউসুফ হোসেন আইনজীবীর মাধ্যমে সময় প্রার্থনা করলে আদালত তা মঞ্জুর করে।
কিন্তু তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে অভিযোগপত্র কোথায়—সে প্রশ্নের উত্তর নেই।
তদন্ত সংস্থার গড়িমসিতে ক্ষুব্ধ পরিবার
ত্বকী হত্যার পর এত বছর পেরিয়ে গেলেও র্যাব–১১ তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে না পারায় প্রশ্ন উঠেছে তাদের সক্ষমতা, ইচ্ছাশক্তি ও নিরপেক্ষতা নিয়ে। পরিবারের অভিযোগ, তদন্তে ইচ্ছাকৃত অবহেলা ও সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে আসামিদের সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে।
পরবর্তী তারিখ ধার্য ৭ জানুয়ারি
নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইউম খান জানান, আদালত আগামী ৭ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির তারিখ রেখেছেন এবং তদন্ত কর্মকর্তাকে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
অদৃশ্য শক্তির আশ্রয়-প্রশ্রয় ?
ত্বকী হত্যা মামলার তদন্তের এই দীর্ঘসূত্রতা জনমনে প্রশ্ন তুলছে—তদন্ত সংস্থার হঠাৎ এই মন্দগতির পেছনে কি প্রভাবশালী কারও ছায়া আছে ? নাকি ১১ বছরেও সত্য উদঘাটনের সদিচ্ছাই অনুপস্থিত ?
নারায়ণগঞ্জের মানুষ অপেক্ষা করছে—ন্যায়বিচারের জন্য। ত্বকীর পরিবার অপেক্ষা করছে—অভিযুক্তদের আইনের মুখোমুখি দেখার জন্য। আর সময়ের সঙ্গে এই অপেক্ষা কেবল আরও বেদনার, আরও ক্ষোভের।









Discussion about this post