নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের তারাব পৌর বিএনপিতে মনোনয়ন নিয়ে ‘টাকা লেনদেন’ ও বিতর্কিত ব্যক্তিকে দলে আনার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এলাকাবাসীর দাবি, মনোনয়ন কেনাবেচার এক মাসের মধ্যেই সাংগঠনিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পৌর বিএনপি।
বিতর্কের কেন্দ্রে : আলহাজ্ব রমজান হোসেন
এলাকাবাসী ও বিএনপির বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, বরপার বাসিন্দা আলহাজ্ব রমজান হোসেন—যাকে তারা “আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ” এবং “র্যাবের তথাকথিত ইনফর্মার” হিসেবে বর্ণনা করেন—তাকে সম্প্রতি বিএনপিতে পুনর্বাসন করা হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে তিনি স্থানীয় ক্ষমতাসীন মহলের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং সময়ের সুবিধা নিয়ে বিপুল সম্পদের মালিকানায়ও ওঠেন।
বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী বলেন, “যে ব্যক্তি অতীতে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছে, তার হঠাৎ বিএনপিতে আগমন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
বিএনপির কর্মসূচির সময় নির্যাতনের অভিযোগ
তার বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তুলছেন বরপা এলাকার সাধারণ নাগরিক ও বিএনপি নেতারা।
তাদের ভাষ্য, জুলাই আন্দোলন এবং বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচির সময় বরপা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্যান্ডেল বসিয়ে তিনি কিছু সহযোগীর সঙ্গে মিলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের আটকে রেখে নির্যাতন করতেন।
তারা দাবি করে, ৫ আগস্ট পর্যন্ত এসব কর্মকাণ্ড চলেছে।
এমনকি তাকে “জুলাই বিপ্লবে ছাত্র হত্যার মামলার আসামি” বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে—যদিও এসব বিষয়ে কোনো স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।
‘শতাধিক আওয়ামী কর্মী বিএনপিতে ঢুকেছে’—অভিযোগ স্থানীয়দের
এলাকাবাসী ও বিএনপির তৃণমূল নেতাদের দাবি, রমজান হোসেনের সঙ্গে আরও বহু আওয়ামী লীগ কর্মী-বিপথগামী চিহ্নিত ব্যক্তিকে বিএনপিতে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এতে সংগঠনের দীর্ঘদিনের কর্মীরা হতাশা ও ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন।
বিএনপির কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেন, “এটি পরিকল্পিত অনুপ্রবেশ। এতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির ভোট সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে।”
দলের ভেতরে বিভাজন বাড়ছে
দলের একটি অংশ অভিযোগ করেছে—মোটা অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে তারাবা পৌর বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা দিপু ভুঁইয়া রমজানকে দলে ভিড়িয়েছেন।
অবশ্য এ বিষয়ে দিপু ভুঁইয়ার আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তার বলয়ের একজন যুবদল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আওয়ামী দোসরকে বিএনপিতে এনে বরপার মানুষকে আবার আতঙ্কিত করা হয়েছে। তার কারণে মানুষ ধানের শীষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।”
সহিংসতার আশঙ্কা
স্থানীয়রা বলেন, বরপা এলাকায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈরিতা রয়েছে—তার ওপর হঠাৎ এই বিতর্কিত যোগদান পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করছে।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, “যে কোনো মুহূর্তে এলাকায় সংঘর্ষ বা সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।”
বহু প্রশ্নের মুখে স্থানীয় বিএনপি
– কেন হঠাৎ বিতর্কিত ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্যক্তিকে দলে আনা হলো?
– মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় টাকা লেনদেনের অভিযোগ কতটা সত্য?
– এ সিদ্ধান্তে তৃণমূল নেতাদের মনোবল কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে?
– এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—এটি কি আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির বিপর্যয়ের কারণ হবে?
এই প্রশ্নগুলোই এখন তারাব পৌরসভায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির ভেতরের সিদ্ধান্তহীনতা ও অস্বচ্ছতা দলটিকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে, আর তৃণমূলের ক্ষোভ যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়—তা বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।









Discussion about this post