বন্দর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২১নং ওয়ার্ডের বউ বাজারে ইজারা না থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত এই চাঁদাবাজচক্রের ভয়ে বহুদিন ধরেই মুখ খুলতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।
বৈধ ইজারা না থাকলেও প্রতিদিন বাজার পরিস্কারের নামে আদায় করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা—এমনকি আগে বৈধভাবে ইজারা নিয়েও ব্যবসায়ীদের একই চক্রকে টাকা দিতে বাধ্য হতে হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, বাজারটি দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে আক্তার নামে এক মাছ ব্যবসায়ী, যার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ নতুন নয়। তাঁর পেছনে রয়েছে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে বাজারটি নিয়ন্ত্রণ করতেন যুবলীগ নেতা খান মাসুদের অনুসারীরা, তখন দোকানপ্রতি ৫০–৬০ টাকা করে খোলাখুলিভাবে চাঁদা তুলতেন বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
সরকার পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি কিছুদিন স্বাভাবিক হলেও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি সেই স্বস্তি। বন্দর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন পিংকিসহ বিএনপির কয়েকজন নেতা বাজারে চাঁদা আদায় বন্ধ করে দিলে কিছুদিন চাঁদামুক্ত ছিল বউ বাজার।
কিন্তু সম্প্রতি ফের আক্তারকে সামনে রেখে বাজার পরিস্কারের নামে প্রতিদিন দোকানপ্রতি ১০–২০ টাকা করে টাকা তোলা শুরু হয়েছে।
বাজারে প্রায় ২০০ দোকান বসে। ব্যবসায়ীদের দাবি—এই ১০–২০ টাকার নামে প্রতিদিন গড়ে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে, যার এক টাকাও সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব খাতে জমা হয় না। পুরো টাকাই যায় আক্তার ও তাঁর আশ্রয়দাতাদের পকেটে।
গত ৩ ডিসেম্বর আক্তার ও কয়েকজন যুবদল–স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী বাজারের তথাকথিত “চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে” বিক্ষোভ মিছিলও করেছেন। যেখানে আক্তার নিজেই বক্তব্য দিয়ে দাবি করেন—বাজার পরিষ্কারের জন্যই টাকা তোলা হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীরা এটিকে “নিজেদের চাঁদাবাজি আড়াল করার কৌশল” বলে মন্তব্য করেছেন।
বাজার পরিষ্কার করা এক নারী কর্মী বলেন,
“আমি প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পাই। দোকানদাররা কেউ ৫ টাকা দেয়, কেউ ১০ টাকা। শুক্রবার একটু বেশি দোকান বসে, সেদিন ১,০০০ টাকার মতো ওঠে।”
তবে প্রশ্ন থেকে যায়—যদি প্রতিদিন মাত্র ২০০–৩০০ টাকায় বাজার পরিষ্কার করা সম্ভব হয়, তাহলে বাকি হাজার টাকা কোথায় যায়? কেন সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন একটি বাজারে ইজারা ছাড়াই বছরের পর বছর এভাবে চাঁদা তোলার সুযোগ পাচ্ছে একটি চক্র?
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“সিটি কর্পোরেশন ইচ্ছা করলেই একদিনে সব বন্ধ করতে পারে। কিন্তু তাদের রহস্যজনক নীরবতায় চাঁদাবাজরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বহীনতা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় চরম অবহেলার সুযোগে সাধারণ ব্যবসায়ীরা আজ জিম্মি হয়ে পড়েছেন একটি প্রভাবশালী চক্রের কাছে। ইজারাবিহীন বাজারে চাঁদাবাজির মতো অপরাধ প্রকাশ্যে ঘটলেও করপোরেশনের কোনো মনিটরিং নেই, নেই আইনগত ব্যবস্থা—এমন পরিস্থিতি এ শহরের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন—অবিলম্বে সিটি কর্পোরেশন বাজারটির আইনগত ইজারা ব্যবস্থা পুনরায় চালু করে চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিক। না হলে বাজারে অরাজকতা ও দখলদারিত্ব আরও বাড়বে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ ব্যবসায়ী–ক্রেতাসহ পুরো এলাকাবাসী।









Discussion about this post