নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বহুল আলোচিত হাসেম ফুডস কারখানায় পরিবেশ অধিদপ্তরের আজ ৭ ডিসেম্বর রোববারের অভিযানে আবারও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত এ অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিকে মাত্র ২ লাখ টাকা জরিমানা করে দায়সারা ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রশ্নের ঝড় উঠেছে শিল্পাঞ্চলজুড়ে।
যে কারখানায় ২০২১ সালের ৮ জুলাই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫৪ কর্মী প্রাণ হারিয়েছিলেন, যে ঘটনায় অসংখ্য পরিবারে নেমে এসেছিল চরম শোক ও নিঃস্বতা—সেই ঘটনার বিচার আজও আলোর মুখ দেখেনি। তদন্ত, দায় নির্ধারণ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি—কোনোটিই হয়নি। অথচ দীর্ঘ নীরবতার পর হঠাৎ পরিবেশ অধিদপ্তরের ‘সতর্কতা অভিযান’ এবং কর্পোরেট জায়ান্টের বিরুদ্ধে মাত্র ২ লাখ টাকার জরিমানা—এটিকে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে ‘আইন ও ন্যায়বিচারের উপহাস’ বলে সমালোচনা করছেন।
স্থানীয়দের ক্ষোভ—
“যে আগুনে ৫৪ জন পুড়ে মারা গেল, সেই হত্যার বিচার কোথায় ? তখন কি কেউ আইনের কথা ভেবেছিল ? এখন হঠাৎ পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান আর নগণ্য জরিমানা—এটা কি শাস্তি, নাকি জনগণের সঙ্গে রসিকতা ?”
সমালোচকরা মনে করছেন, হাসেম ফুডসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নিয়ম ভঙ্গ, নিরাপত্তাহীন কর্মপরিবেশ ও আইন অমান্যের অভিযোগ ছিল। বহু শ্রমিকের প্রাণ ঝরে যাওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার নির্লিপ্ততারই প্রমাণ। এখন আবার ক্ষুদ্র জরিমানা আর আনুষ্ঠানিক অভিযান—এ যেন প্রতিষ্ঠানটিকে আরও একবার দায়মুক্তির আড়াল দিতে চাওয়ারই ইঙ্গিত।
২০২১ সালের অগ্নিকাণ্ডের পর ভুলতা ফাঁড়ির পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক আবুল হাসেম, তাঁর চার ছেলে ও আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু অত্যন্ত প্রভাবশালী চক্রের তদ্বিরে—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের—আবুল হাসেমসহ ছয়জন এখন জামিনে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করছেন। বিচার প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির।
রূপগঞ্জবাসীর ক্ষোভ স্পষ্ট :
“যারা মানুষের জীবনকে মূল্যই দেয় না, তাদের কাছে ২ লাখ টাকা জরিমানা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি কোনো শাস্তি নয়—এটি জনগণের সঙ্গে সরাসরি প্রহসন অথবা ভিন্ন কোন নাটকের পূর্ব মঞ্চায়ন।”
রূপগঞ্জবাসীর একটাই দাবি—বিচার চাই, দায়ীদের জবাবদিহি চাই
নগণ্য জরিমানায় আইন দেখানোর ভান নয়। ৫৪ পরিবারের কান্নার রেশ এখনো কাটেনি।
সেই অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের স্মৃতি আজও রূপগঞ্জের বুক চিরে বয়ে যায়।
মানুষের প্রশ্ন একটাই—
“প্রাণহানি যেখানে, বিচার কোথায় ?”









Discussion about this post