নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জে যেন উন্মুক্তভাবে চলছে পচা–বাসি খাবার বিক্রির প্রতিযোগিতা। শহরের প্রায় সব হোটেল–রেস্তোরাঁতে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবেশন করা হচ্ছে নিম্নমানের খাবার, পচা চিকেন, বাসি তরকারি আর অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘরের ভয়ঙ্কর সব নমুনা।
অভিযোগের পাহাড় জমলেও প্রশাসন, পৌরসভা কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষই এতদিন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে যেন আগ্রহ দেখায়নি।
বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, রেস্তোরাঁ মালিকদের ব্যবসা মনে হচ্ছে ‘খাবারের নামে প্রতারণা’, আর তার ছায়াতলে নীরবভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে থানা পুলিশ থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের নিয়মিত অতিথিদের ‘মাশরা’। নগরবাসী যা খাচ্ছে, তা খাবার না ‘খেলনামূলক খাদ্য বিপর্যয়’—তা বোঝাই দায়।
এসব অভিযোগের মাঝে এবার আলোচনায় এলো শহরের প্রসিদ্ধ সুগন্ধা প্লাস রেস্তোরাঁ। বহুদিনের জনপ্রিয়তার মুখোশ খুলে এবার তাদের রান্নাঘরেই পাওয়া গেল পচা চিকেন গ্রিল, বাসি টিকা, বাসি কাবাবসহ কয়েক দিনের পুরোনো খাবার। ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযানে প্রকাশ্যে ধরা পড়ে এই ভয়ংকর অবস্থা।
আজ সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে চাষাঢ়া সুগন্ধা প্লাসে অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হৃদয় রঞ্জন বণিক। সঙ্গে ছিলেন কৃষি বিপণন কর্মকর্তারা ও জেলা পুলিশের একটি দল। রান্নাঘরের ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায়—ফ্রিজভর্তি কয়েক দিনের বাসি খাবার, মেয়াদোত্তীর্ণ মাংস দিয়ে তৈরি গ্রিল, আর সর্বত্র অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ছড়াছড়ি।
অভিযান শেষে সুগন্ধা প্লাসকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। কর্মকর্তা হৃদয় রঞ্জন বণিক বলেন, “নিয়মিত মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে এই অভিযান। পচা–বাসি খাবার সংরক্ষণ ও পরিবেশনের দায়ে রেস্তোরাঁটিকে জরিমানা করা হয়েছে।”
নগরবাসীর প্রশ্ন—
একটি মাত্র অভিযানে ধরা পড়ল সুগন্ধা প্লাস। বাকি অসংখ্য রেস্তোরাঁয় প্রতিদিন কী খাওয়ানো হচ্ছে ?
যদি শহরের সবচেয়ে পরিচিত রেস্তোরাঁ এমন চিত্র উপহার দিতে পারে, তাহলে সাধারণ হোটেলগুলোর অবস্থার ধারণা করা কঠিন নয়।
নগরবাসীর ভাষায়—
“হোটেলগুলো খাবার নয়, মানুষের সহনশীলতা পরীক্ষা করছে।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুগন্ধা রেস্তোরাঁর অত্যন্ত নির্ভরশীল একটি সূত্র জানায়, ‘শুধু সুগন্ধা রেস্টুরেন্টেই নয় পুরো নারায়ণগঞ্জের প্রতিটা হোটেল রেস্তোরাঁয় গোপন রান্নাঘরে অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার সংরক্ষণ করে তা পরবর্তীতে গরম করে সাধারণ মানুষের মাঝে বিক্রি করা হয়। আর এমন নগ্ন কর্মকাণ্ডের কারণে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি নিয়মিত মাশওয়ারা তোলেন জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন অফিস, থানা পুলিশ, ভোক্তা অধিকার বিএসটিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সংস্থাকে ম্যানেজ করার জন্য। বিগত সময়ে ভোক্তা অধিকার নারায়ণগঞ্জের কর্মকর্তা সেলিমুজ্জামানও নিয়মিত মাসোয়ারা নিতেন চিহ্নিত বিশেষ পেশার দালালদের মাধ্যমে। আর এবার দীর্ঘদিন পরে নতুন এই কর্মকর্তার এমন অভিযান প্রমাণ করে তিনি সবকিছু জেনে-শুনে- বুঝে এই অভিযান চালিয়েছেন আর নেপথ্যে রয়েছে নানান পুট কৌশল।’









Discussion about this post