নগর প্রতিনিধি :
গণঅভ্যুত্থানের পর নারায়ণগঞ্জে গুম-খুন-সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত ওসমান পরিবারের বহু সদস্য দেশ ছাড়লেও তাদের অনুসারীরা এখনো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে মিশে গিয়ে পুরোনো অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও নিহত তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি।
সোমবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১৫৩ মাস উপলক্ষে আয়োজিত আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
রাব্বি বলেন, “দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটলেও সেই ব্যবস্থার অনেক উপাদান এখনো টিকে আছে। ওসমান পরিবারের অনুগতরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় পুনরায় চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও পুরোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে।”
ত্বকী হত্যার বিচার এখনো অধরা: ৯৯ তারিখেও অভিযোগপত্র নেই
আয়োজিত অনুষ্ঠানে রফিউর রাব্বি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ত্বকী হত্যাকাণ্ডসহ কয়েকটি আলোচিত মামলার দ্রুত বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
তিনি জানান, ত্বকী হত্যা মামলার ৯৯ বার তারিখ নেওয়া হলেও তদন্ত সংস্থা র্যাব এখনো অভিযোগপত্র দাখিল করেনি। রাব্বির দাবি—অভিযোগপত্রে শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান, আজমেরী ও শাহ নিজামসহ মূল পরিকল্পনাকারী ও জড়িত সকলকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
রাব্বি আরও বলেন,
“নারায়ণগঞ্জের আশিক, চঞ্চল, বুলু, মিঠু—ওসমান পরিবারের হাতে নিহত সকলের বিচার আমরা চাই। কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছরের বেশি সময়েও এসব হত্যাকাণ্ডের কুলকিনারা হয়নি। সাগর-রুনি, তনু, মিতুর মতো দেশের আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোও এখনো বিচারহীনতায় ভুগছে।”
‘আইয়ামে জাহেলিয়াতের’ পরিস্থিতির অভিযোগ
শেখ হাসিনার শাসনামলে নারায়ণগঞ্জে ‘আইয়ামে জাহেলিয়াতের’ মতো অবস্থা তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন রাব্বি। তাঁর দাবি,
“ওসমান পরিবারের সন্ত্রাসী রাজত্ব ছিল প্রকাশ্য। প্রশাসন তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, হত্যার বিচার তো দূরের কথা—অভিযুক্তরা শহরের রাস্তায় দাপটের সঙ্গে চলাফেরা করেছে।”
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে কিছু অগ্রগতি দেখালেও হাসিনার চূর্ণ-বিচূর্ণ বিচারব্যবস্থাকে এখনো স্বাভাবিক করা যায়নি, যার কারণে দেশে মব জাস্টিস ও আইনহীনতার সংস্কৃতি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে সন্ত্রাসীদের সক্রিয়তা
রাব্বি আরও অভিযোগ করেন যে,
“আওয়ামী লীগের আমল থেকে যে চাঁদাবাজি ও মামলা দিয়ে হয়রানির সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল, আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এখন আবার সেই একই পথে হাঁটছে। ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে, না দিলে মামলা দেওয়া হচ্ছে—যা প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থা জেনেও উপেক্ষা করছে।”
সাবেক মেয়র আইভীর মুক্তির দাবি
অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহবুবুর রহমান মাসুম সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর মুক্তি দাবি করেন।
তিনি বলেন,
“আইভী ওসমান পরিবারের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যিনি একমাত্র প্রকাশ্যে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই নারী আজ মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী। পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট জামিন দিলেও আরও পাঁচটি সাজানো মামলা দিয়ে তাকে আটকে রাখা হয়েছে। এটি সুস্পষ্ট প্রতিহিংসার রাজনীতি।”
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরিনের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ আলোক-প্রজ্বালন কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন—
সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ
শিশু সংগঠক রথীন চক্রবর্তী
নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিক
গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন
ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন
সমমনা’র সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা
সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজল
জাহিদুল হক দিপু ও ধীমান সাহা জুয়েল ।









Discussion about this post