রূপগঞ্জ সংবাদদাতা :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চাঁদার দাবিসহ ভিন্ন কারণে পরপর দুই দিনে দু’টি গুলির ঘটনায় এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে চরম আতঙ্ক। সোমবার রাতে উপজেলার মীর গদাই ঈদগাহ মাঠ এলাকায় বাদল নামের এক ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। এর মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে তারাবো এলাকায় ফেসবুকে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গুলি চালিয়ে একজনকে আহত করা হয়। দুই ঘটনার পরই এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের প্রকাশ্য প্রদর্শন ও ব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যবসায়ী বাদলের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী টেডা ইকবাল ও তার অনুসারী সবুজ, রনি, রানা, মোমেনসহ অন্যরা। সোমবার সন্ধ্যায় ইকবাল তার সহযোগীদের নিয়ে বাদলের প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদার টাকা দাবি করে। বাদল অপারগতা জানালে ইকবাল তাকে লক্ষ্য করে সোজাসুজি গুলি ছোড়ে।

গুলিবিদ্ধ হয়ে বাদল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুইটি গুলির খোসা উদ্ধার করে।
অশ্লীল ভাষা সংক্রান্ত ফেসবুক মন্তব্যেও গুলিবর্ষণ
এর একদিন আগেই তারাবো এলাকায় ‘অশ্লীল ভাষা’ নিয়ে এক ব্যক্তির ফেসবুক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধসহ চারজন আহত হন। দুই ঘটনার ধরনেই একটি বিষয় স্পষ্ট—তুচ্ছ কারণেই অস্ত্রধারীরা গুলি চালাতে দ্বিধা করছে না।
অরাজকতা ও অস্ত্রের ঝনঝনানি: জননিরাপত্তায় প্রশ্ন
ক্রমাগত দুই দিনে দুটি গুলির ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বাসিন্দারা বলছেন, এলাকায় একটি দৃশ্যমান অস্ত্রবাজ চক্র সক্রিয়। তুচ্ছ বিষয় থেকে চাঁদাবাজি—সব ক্ষেত্রেই অস্ত্রের দাপট বাড়ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে টেডা ইকবালসহ কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি, মারধর ও দাপট দেখিয়ে আসছে; কিন্তু দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর ফলে তাদের মনোবল আরও বেড়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাবজেল বলেন, “ঘটনার অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।”
তবে স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ রয়েছে—কেবল অভিযোগ গ্রহণ নয়, সন্ত্রাসী চক্রকে দমন এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কার্যকর অভিযান না হলে এমন ঘটনা বাড়তেই থাকবে।
সামাজিক বিশ্লেষণ
ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে—রূপগঞ্জে অবৈধ অস্ত্র সহজলভ্য, চাঁদাবাজ চক্রগুলো সংগঠিত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি প্রত্যাশিত মাত্রায় দৃশ্যমান নয়, ছোট ঘটনা থেকেই সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণ ঘটছে।
এলাকাবাসীর মতে, এখনই কঠোর অভিযান, সন্ত্রাসী চক্রের পরিচয় প্রকাশ, এবং প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি না বাড়ালে রূপগঞ্জে অরাজকতা আরও বাড়বে ।









Discussion about this post