নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পথচারীর সঙ্গে সামান্য ধাক্কা লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বের হয়ে আসে ভয়ঙ্কর এক মাদকচক্রের সত্য।
মাত্র ২০ বছর বয়সী এক তরুণ—জিহাদুল ইসলাম—বহন করছিলেন ১০ হাজার ইয়াবার বিশাল চালান।
কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে উঠে এসে সিদ্ধিরগঞ্জে ভাড়া বাসায় থেকে কোটি টাকার মাদক ব্যবসা পরিচালনা করা এই তরুণের গ্রেপ্তার প্রমাণ করে—মাদক এখন আর শুধু অপরাধ নয়; এটি সমাজের অন্ধকারে ছড়িয়ে পড়া মহামারী।
একটি ছোট ধাক্কায় ভেঙে পড়ল বড় চক্র
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাইনাদী নতুন মহল্লার শাপলা চত্বর এলাকায় ধাক্কা লাগার পর জিহাদুলের অস্বাভাবিক আচরণ স্থানীয়দের নজরে আসে। ব্যাগ আঁকড়ে থাকার কারণে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা ব্যাগ তল্লাশি করে দেখেন—এর ভেতরে লুকানো আছে ১০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট।
এই দৃশ্য শুধু বিস্ময়ই নয়, বরং উদ্বেগ তৈরি করে—এত বড় চালান একজন ২০ বছরের যুবকের হাতেই কীভাবে আসে?
মাদক—নজরদারির ফাঁক গলে সমাজের সর্বত্র
জিহাদুল কক্সবাজারের টেকনাফের রঙ্গিখালী দক্ষিণ হ্নীলা এলাকার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জে। এ থেকেই বুঝা যায়, মাদক ব্যবসায়ীরা কৌশলে দেশের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে।
কিশোর ও তরুণদের টার্গেট করে তাদের হাতে কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য তুলে দিচ্ছে বড় সিন্ডিকেট।
ওসির বক্তব্যে উঠে এল চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল বারিক জানান—এলাকাবাসীর সন্দেহেই তরুণটি আটক হয় এবং পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু হয়েছে।
এটি প্রমাণ করে—মাদক ব্যবসা এখন আর সীমান্ত বা নির্দিষ্ট এলাকার সমস্যা নয়; এটি বাংলাদেশের প্রতিটি শহর, মহল্লা, এমনকি সাধারণ পথচারীর পাশে দাঁড়ানো তরুণদের মধ্যেও ছড়িয়ে গেছে।
মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা
মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়—একটি পুরো প্রজন্ম, একটি সমাজ, এবং দেশের ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে। ভয়াবহ সত্য হলো—এখন বয়স, শিক্ষা, পরিবার, সমাজ—কোনো কিছুই মাদক সিন্ডিকেটের পথে বাধা নয়। বিপথগামী তরুণদের হাতে কোটি কোটি টাকা তুলে দিচ্ছে এই অন্ধকার শিল্প।
মাদক হলো এমন এক বিষবৃক্ষ, যার শেকড় অজান্তেই ছড়িয়ে যায় রাস্তায়-ঘাটে, স্কুলে-কলেজে, এমনকি ঘরের ভেতর সন্তানদের ভাণ্ডারে। আর প্রতিটি ইয়াবার ট্যাবলেট মানে একটি পরিবারে অশান্তি, একটি মায়ের চোখের পানি, একটি সমাজের পতন।
যা করতে হবে এখনই
✔ স্থানীয়দের সচেতনতা আরও বাড়ানো
শাপলা চত্বরে যা ঘটেছে—এই নাগরিক দায়িত্বই বড় অপরাধ ঠেকিয়েছে।
✔ মাদকচক্রের বড় মাছ ধরতে বিশেষ অভিযান
জিহাদুল কেবল বাহক; এর পিছনে রয়েছে বড় নেটওয়ার্ক।
✔ তরুণদের মাদক প্রতিরোধে শিক্ষামূলক কর্মসূচি
পরিবার, স্কুল, কলেজ—সবার মধ্যে প্রতিরোধমূলক সচেতনতা জরুরি।
✔ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কড়া নজরদারি
বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা ও শহরাঞ্চলের ভাড়া বাসাগুলোতে তদারকি বাড়াতে হবে।
উপসংহার
২০ বছর বয়সী তরুণ যখন ১০ হাজার ইয়াবা নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, তখন সমাজের নৈতিক ভিত্তি কোথাও না কোথাও ভেঙে পড়ছে। এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট—মাদক নির্মূল এখন আর শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব নয়; এটি পুরো সমাজের যুদ্ধ।
মাদককে না বলতে হলে—আজই বলতে হবে।
এখনই না দাঁড়ালে, হারাব আমরা পুরো একটি প্রজন্ম।









Discussion about this post