বিশেষ অনুসন্ধান প্রতিবেদন
ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদীকে গুলির ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে একটি সাম্প্রতিক অস্ত্রধারী লুটের মামলা। রাজধানীর আদাবরে একটি স্কুলে ঢুকে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের সঙ্গেই মিলছে গুলির ঘটনায় থাকা আততায়ীর চেহারা, গতিবিধি ও অস্ত্র ব্যবহারের ধরন।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্র জানায়, পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে সংঘটিত গুলির ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে যে ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে, তার সঙ্গে ফয়সাল করিম মাসুদের মুখাবয়ব ও শারীরিক গঠনের বিস্তর সাদৃশ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে তাকে প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ফয়সাল করিম মাসুদ কোনো সাধারণ অপরাধী নন। তিনি একসময় আদাবর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৯ সালে ঘোষিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও তার নাম ছিল। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন রাজধানীতে সক্রিয় ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ২৮ অক্টোবর আদাবরের বাইতুল আমান হাউজিং সোসাইটি এলাকায় ব্রিটিশ কলাম্বিয়া স্কুলের কার্যালয়ে ঢুকে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান আসামি করা হয়। র্যাবের অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি ও একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। অস্ত্রের ধরন ও ব্যবহারের কৌশল বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা বলছেন, হাদীর ওপর গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রের সঙ্গে এই অস্ত্রের মিল খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে পুরানা পল্টনে মোটরসাইকেলে আসা এক ব্যক্তি খুব কাছ থেকে ওসমান হাদীকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার ধরন, সময় নির্বাচন ও দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার কৌশল পেশাদার অপরাধীর ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। বর্তমানে ওসমান হাদী এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ছবিতে দেখা গেছে, ওসমান হাদির বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রতিষ্ঠানে ফয়সাল করিম মাসুদের উপস্থিতি। তদন্তকারীরা এসব ছবি, সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ফোনের কল ডাটা বিশ্লেষণ করে দুই ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজছেন।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী হামলাকারীকে ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে ডিএমপি সন্দেহভাজনের ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ করে জনগণের সহায়তা চেয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, “স্কুলে সশস্ত্র লুট ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল একজন ব্যক্তিকে গুলি—দুটি ঘটনাই পরিকল্পিত এবং একই নেটওয়ার্ক থেকে পরিচালিত হয়ে থাকতে পারে।” আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন খতিয়ে দেখছে, এটি ব্যক্তিগত বিরোধ নাকি এর পেছনে আরও গভীর রাজনৈতিক বা অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে।
এই দুটি ঘটনা একসূত্রে গাঁথা হলে তা রাজধানীর নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য গুরুতর বার্তা বহন করবে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।









Discussion about this post