নিজস্ব প্রতিবেদক :
ফতুল্লার অটোরিকশা চালক ইউসুফ সরদার হত্যাকাণ্ডটি শুধু একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত অপরাধ ও আন্তঃজেলা অপরাধচক্রের সম্ভাব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। র্যাব-১১ এর হাতে এক আসামি গ্রেপ্তার হলেও এই হত্যার পেছনের পুরো চিত্র এখনো ধোঁয়াশাচ্ছন্ন।
নিখোঁজ থেকে মরদেহ উদ্ধার
১৫ নভেম্বর দুপুরে প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বের হন ইউসুফ সরদার। রাতের মধ্যে ফেরার কথা থাকলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাওয়ায় পরিবার প্রথম থেকেই শঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরদিন ভোরে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ এলাকায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন হত্যার নিষ্ঠুরতার প্রমাণ দেয়।
হত্যার পর ছিনতাই, তারপর লাশ ফেলে দেওয়া
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর ইউসুফের অটোরিকশাটি ছিনতাই করা হয় এবং মরদেহ ফতুল্লা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ঢাকায় ফেলে রাখা হয়। এতে স্পষ্ট হয়, হত্যাকাণ্ডটি তাৎক্ষণিক নয়; বরং স্থান বদল, আলামত নষ্ট এবং অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার, কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়
র্যাব-১১ ফতুল্লার বটতলা খেলার মাঠ এলাকা থেকে হৃদয় (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। তবে প্রশ্ন উঠছে—
হৃদয় কি একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, নাকি তার পেছনে আরও কেউ রয়েছে?
ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি কোথায়, কার কাছে বিক্রি বা হস্তান্তর করা হয়েছে?
ফতুল্লা ও যাত্রাবাড়ী—দুটি এলাকার সংযোগ কীভাবে ঘটল?
সামাজিক বাস্তবতা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন
ইউসুফ সরদার ছিলেন এক বছরের সন্তানের জনক, স্বল্প আয়ের একজন শ্রমজীবী মানুষ। তার মতো অটোরিকশা চালকদের নিরাপত্তাহীনতা নতুন নয়। রাতের বেলায় যাত্রী পরিবহন, অচেনা যাত্রী, নির্জন সড়ক—সব মিলিয়ে তারা নিয়মিত ঝুঁকির মুখে থাকেন। অথচ এই পেশাজীবীদের জন্য কোনো কার্যকর নিরাপত্তা কাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি।
তদন্তের অগ্রগতি কতদূর?
হৃদয়কে থানায় হস্তান্তর করা হলেও মামলার তদন্তে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হবে—
ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ
কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ
ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধার
সম্ভাব্য অপরাধচক্র চিহ্নিত করা
উপসংহার
ইউসুফ সরদার হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; এটি নগর ও উপশহর এলাকায় চলমান ছিনতাই ও সহিংসতার ভয়াবহ বাস্তবতা তুলে ধরে। এক আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় তদন্তের সূচনা হয়েছে বটে, তবে পুরো অপরাধচক্র উদ্ঘাটন না হলে ন্যায়বিচার অসম্পূর্ণই থেকে যাবে। এই ঘটনায় দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তই পারে নিহতের পরিবারকে কিছুটা হলেও ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিতে।









Discussion about this post