বিশেষ প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে উদ্ধার হওয়া মাথাবিহীন মরদেহটি যখন ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষায় শনাক্ত হয়, তখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ চিত্র। নিহত ব্যক্তি রাজবাড়ি জেলার পাংশা উপজেলার বাসিন্দা ও কাতারপ্রবাসী মো. আব্রাহাম খান (২৭)। পরিবারের দাবি, এটি কোনো আকস্মিক হত্যা নয়—বরং পরকীয়াকে কেন্দ্র করে পূর্বপরিকল্পিত খুন।
নিখোঁজ থেকে মরদেহ: রহস্যের শুরু
গত ১৫ ডিসেম্বর সকালে আব্রাহাম খান বন্ধু শাকিল শেখের সঙ্গে ঢাকায় কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু ওই রাত থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো খোঁজ মেলেনি।
পরদিন ১৬ ডিসেম্বর সকালে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের একটি খোলা মাঠে মাথাবিহীন এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে বিকেলে পাশের একটি খাল থেকে উদ্ধার করা হয় বিচ্ছিন্ন মাথাটি।
ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ।
পরকীয়ার অভিযোগ ও পুরনো বিরোধ
নিহতের পরিবার বলছে, আব্রাহাম খানের সঙ্গে পাংশা পৌর এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে একাধিকবার সালিস-বিচারও হয়। সেই সময় থেকেই আব্রাহামকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে পরিবারের অভিযোগ।
নিহতের বড় বোন আরবিনা খাতুনের ভাষায়,
“এই সম্পর্কের কারণে আমাদের পরিবার সামাজিকভাবে অপদস্থ হয়েছে। ওই নারীর বড় ভাই আড়াইহাজারে চাকরি করেন। তিনি আমার ভাইকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন।”
পরিবারের দাবি, ওই হুমকিগুলোই শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয়।
‘বন্ধু শাকিল’ রহস্য
আব্রাহাম যেদিন নিখোঁজ হন, সেদিন তিনি বন্ধু শাকিল শেখের সঙ্গে ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে বের হয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনার পর শাকিল পরিবারকে জানায়, এ বিষয়ে তাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি।
এই তথ্য মামলার তদন্তে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—
তাহলে আব্রাহাম কার ডাকে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন ?
শেষবার তিনি কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন ?
‘শাকিল’ নামটি কি কৌশলে ব্যবহার করা হয়েছিল ?
হত্যার ধরন যা বলছে
পুলিশ জানায়, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলা এবং আলাদা স্থানে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি হত্যার নৃশংসতা ও পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়।
এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পুলিশের বক্তব্য
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলাউদ্দিন বলেন,
“এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আমরা পারিবারিক অভিযোগসহ সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।”
প্রশ্ন যা এখনো অমীমাংসিত
এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে—
আব্রাহামকে ঠিক কোথায় হত্যা করা হয়েছে ?
মাথা বিচ্ছিন্ন করার পেছনে উদ্দেশ্য কী ?
পরকীয়ার অভিযোগ ছাড়া অন্য কোনো কারণ আছে কি না ?
কারা সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ?









Discussion about this post