বিশেষ প্রতিবেদক :
“বাংলাদেশের বাইরে কি আলাদা কোনো ভূখণ্ড নারায়ণগঞ্জ?”—শনিবার সকাল থেকেই এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল নারায়ণগঞ্জ ক্লাব প্রাঙ্গণে। রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে ব্যানার, ফেস্টুন আর মাইকের শব্দে মুখরিত ‘এলিট’ ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন কয়েকজন প্রবীণ নাগরিক।
আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ওসমান হাদীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সরকার সারাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। এ উপলক্ষে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে শোক পালন এবং সকল প্রকার উৎসবমূলক কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটসহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—এই নির্দেশনা কি নারায়ণগঞ্জের জন্য প্রযোজ্য নয় ?
সকাল আটটায় ‘উৎসবের ভোট’
রাষ্ট্রীয় শোকের দিনেই সকাল আটটা থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম অভিজাত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। শুধু তাই নয়—ভোটকে ঘিরে সাজসজ্জা, ব্যানার-ফেস্টুন, মাইক বাজিয়ে এক ধরনের আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করা হয়, যা শোকের পরিবেশের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
এ দৃশ্য দেখে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় প্রবীণরা। তাদের ভাষায়,
“যেখানে রাষ্ট্র শোক পালন করছে, সেখানে এখানে উৎসব চলছে। প্রশাসন কি চোখ বুজে আছে ?”
প্রশাসনের নীরবতা, প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা
এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে। রাষ্ট্রীয় ঘোষণাকে উপেক্ষা করে কিভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন চলতে পারে—তা নিয়েই এখন জনমনে ক্ষোভ।
সমালোচকদের মতে, এটি শুধু একটি ক্লাব নির্বাচন নয়; এটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্যে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি কিংবা নীরব সম্মতিতে যদি এমন কার্যক্রম চলে, তবে সেটি আরও উদ্বেগজনক বার্তা দেয়।
‘অদ্ভুত’ নারায়ণগঞ্জ!
নারায়ণগঞ্জ বরাবরই নানা কারণে আলোচিত। তবে রাষ্ট্রীয় শোকের দিনেও এমন উদাসীনতা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—এই শহরে কি রাষ্ট্রীয় আইন ও শৃঙ্খলার আলাদা ব্যাখ্যা আছে?
প্রবীণদের ভাষায়,
“এ যেন এক অদ্ভুত নারায়ণগঞ্জ—যেখানে রাষ্ট্রীয় শোকও থেমে যায় ক্লাবের দরজায়।”
জবাবদিহি কি হবে ?
এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ব্যাখ্যা না আসায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হচ্ছে। নাগরিক সমাজের দাবি—এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং রাষ্ট্রীয় নির্দেশ অমান্যের দায় কার, তা স্পষ্ট করা দরকার।
কারণ, আজ যদি শোকের দিনেও নিয়ম ভাঙার ছাড় দেওয়া হয়, তবে আগামীকাল রাষ্ট্রীয় নির্দেশনার গুরুত্ব কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে—সে প্রশ্নই এখন ঘুরছে নারায়ণগঞ্জজুড়ে।









Discussion about this post