নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় এক রাতে পরপর তিনটি স্বর্ণকার পরিবারের বাড়িতে সংঘটিত দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
গভীর রাতের নিখুঁত সময় নির্বাচন, নির্দিষ্ট পেশার পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং দ্রুত সরে যাওয়ার কৌশল—সব মিলিয়ে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত সংঘবদ্ধ অপরাধ বলেই ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা থেকে পৌনে ৩টার মধ্যে উচিৎপুরা ইউনিয়নের ভৈরবদী গ্রামে এ তিনটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যে একই গ্রামে তিনটি বাড়িতে হানা দিয়ে ডাকাত দল বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, রুপা ও নগদ অর্থ লুট করে নেয়।
নির্দিষ্ট পেশা, নির্দিষ্ট লক্ষ্য
তিনটি বাড়িই স্বর্ণকার পরিবারের। স্থানীয়দের প্রশ্ন—ডাকাতরা কীভাবে নিশ্চিত হলো কোন বাড়িতে কত সম্পদ রয়েছে?
এতে ভেতরের তথ্যদাতা বা পূর্ব নজরদারির সন্দেহ উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকে। কারণ ডাকাতরা প্রতিটি বাড়িতে ঢুকে সরাসরি শোবার ঘর ও আলমারির দিকে যায় এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিসে সময় নষ্ট না করে মূল্যবান সামগ্রী নিয়েই সরে পড়ে।
আতঙ্ক ছড়াতে নৃশংসতা
ডাকাতরা শুধু লুটেই থামেনি। পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুরু করলে তারা ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে চারজনকে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ইউপি সদস্য ও স্বর্ণকার হারাধর রায়ের ছেলে দয়াল রায়, তার ভাগনে রাজন রায়, ভাগনি জামাতা সুজন রায় এবং এক প্রতিবেশী।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের নৃশংসতা মূলত ভবিষ্যৎ প্রতিরোধ ঠেকাতে ও এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই করা হয়।
লুটের পরিমাণ ও সময়ের হিসাব
পরিবারগুলোর দাবি অনুযায়ী,
একটি বাড়ি থেকে ৫ ভরি স্বর্ণ,
আরেকটি থেকে ৬ ভরি স্বর্ণ,
তৃতীয় বাড়ি থেকে ১৫ ভরি স্বর্ণসহ বিপুল পরিমাণ রুপা ও নগদ অর্থ লুট করা হয়েছে।
এত অল্প সময়ে এত বড় লুট—এতে স্পষ্ট, ডাকাত দল ছিল সংখ্যায় একাধিক এবং প্রত্যেকের দায়িত্ব ভাগ করা।
গ্রেপ্তার, কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে
পুলিশ ঘটনার পর সুজন (২৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি আগুয়ান্দী গ্রামের বাসিন্দা এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতির মামলা রয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—একজন গ্রেপ্তার হলেও বাকিরা কোথায় ?
এই চক্র কি আগেও একই কৌশলে ডাকাতি করেছে ?
লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার ও টাকা কোথায় পাচার হয়েছে ?
পুলিশের ভাষ্য বনাম বাস্তবতা
আড়াইহাজার থানার ওসি আলাউদ্দিন জানান, পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ডাকাত গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে।
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, গ্রামে রাতের নিয়মিত টহল থাকলে এত বড় ঘটনা ঘটত কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
আতঙ্কিত গ্রাম, অনিরাপদ স্বর্ণকাররা
ভৈরবদী গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় স্বর্ণকার পরিবারগুলো এখন আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছে। অনেকেই স্বর্ণ ও মূল্যবান সামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু অভিযানের আশ্বাস নয়—ডাকাত চক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে না দিলে এ ধরনের টার্গেটেড অপরাধ আবারও ঘটতে পারে।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আড়াইহাজারের গ্রামীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পুলিশের আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং স্বর্ণকারদের নিরাপত্তা—সবকিছুই নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।









Discussion about this post