নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ নগরীর দড়ি সোনাকান্দা এলাকায় নিখোঁজের প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের দড়ি সোনাকান্দা এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত কিশোরীর নাম আকলিমা (১৩)। স্থানীয়ভাবে সে মোছা. আলিফা নামেও পরিচিত। আকলিমা দড়ি সোনাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার পিতার নাম মো. আলী।
নিখোঁজের ঘটনাপ্রবাহ
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরের পর থেকে আকলিমাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আত্মীয়স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তবে রাত পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হলেও তখনো কেউ ধারণা করতে পারেনি এমন মর্মান্তিক পরিণতির কথা।
মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা
সোমবার ভোরে স্থানীয়রা দড়ি সোনাকান্দা এলাকার একটি নির্জন স্থানে একটি কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে মরদেহটি আকলিমার বলে শনাক্ত করে পরিবার।
প্রাথমিক আলামত ও পুলিশের বক্তব্য
বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মুক্তার আশরাফ জানান, নিখোঁজের পরদিন সকালে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার মুখে আচরের কিছু চিহ্ন দেখা গেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
তিনি আরও জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
তদন্ত ও উদ্বেগ
পুলিশ বলছে, ঘটনাটি ঘিরে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। নিখোঁজ হওয়ার সময়কাল, সর্বশেষ কারা তার সঙ্গে ছিল, ঘটনাস্থলের আশপাশের পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের শনাক্তে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে, একটি শিশু নিখোঁজ হয়ে হত্যার শিকার হতে পারে—এমন আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা ও এলাকার নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রত্যাশা
নিহত আকলিমার পরিবার দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, তদন্তে যেন কোনো গাফিলতি না থাকে এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য দ্রুত জনসম্মুখে উঠে আসে।









Discussion about this post