নিজস্ব প্রতিবেদক :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গে আসন সমঝোতার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনির হোসেন কাসেমীকে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—এই আসনে আর কোনো বিকল্প নেই।
আজ মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) গুলশানে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঘোষণার মধ্য দিয়ে কার্যত মনোনয়ন প্রত্যাশী নয় লাইক্যা ডাকাত সর্দার ও ওসমানীয় দালাল হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ আলীর রাজনৈতিক স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে যায়।
মনোনয়ন প্রত্যাশী থেকে ব্রাত্য
দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করে আসা মোহাম্মদ আলী নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আলোচিত একটি নাম। দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় উপস্থিতি ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগের কথা তুলে ধরে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশা করে আসছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তে তার কোনো স্থান হয়নি।
বিতর্কের ছায়া : অভিযোগের ফিরিস্তি
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও বিভিন্ন সময়ের সংবাদ-আলোচনায় মোহাম্মদ আলীকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধে—
# অতীতে ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ,
# প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠতা ও দালালি করে সুবিধা নেওয়ার দাবি,
# স্থানীয় পর্যায়ে ভয়ভীতি ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার অভিযোগ
এসব অভিযোগ নিয়ে একাধিকবার রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা হলেও তিনি সেগুলো অস্বীকার করে আসছেন। তবে দলীয় শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে তার নাম বাদ পড়া এই অভিযোগগুলোকেই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশ।
বার্তা স্পষ্ট: বিএনপির ‘জিরো টলারেন্স’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে বলেন,
“দলের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তনীয়। এর বিরোধিতা করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সমঝোতার বাইরে গিয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
নারায়ণগঞ্জে হিসাব-নিকাশ
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী নুর হোসেন কাসেমীকে সামনে এনে বিএনপি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিতর্কিত মুখ এড়িয়ে ‘নিয়ন্ত্রিত ও পরীক্ষিত’ সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছে—এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে একদিকে জোটের ঐক্য বজায় থাকছে, অন্যদিকে বিতর্কিত অতীতের অভিযোগে জর্জরিত মুখগুলোকে দূরে রাখার কৌশলও স্পষ্ট।
সংক্ষেপে বার্তা
নারায়ণগঞ্জ-৪ এ এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি মনোনয়ন নয়—এটি কে গ্রহণযোগ্য, আর কে অগ্রহণযোগ্য—সে প্রশ্নে বিএনপির কঠোর অবস্থানের প্রকাশ।









Discussion about this post