নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশের শীর্ষ দুই দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার-এর অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিক সমাজ। এই হামলাকে তারা সংবাদপত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি ও ভয়াবহ আঘাত হিসেবে অভিহিত করেন।
আজ মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে দেশের কোনো শীর্ষ গণমাধ্যমের কার্যালয়ে এমন ন্যাক্কারজনক হামলার নজির নেই। এটি কেবল দুটি পত্রিকার ওপর আক্রমণ নয়—বরং বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীন মতপ্রকাশ ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত আঘাত।
মানববন্ধনে বক্তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি সারাদেশে কর্মরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
সাংবাদিক সমাজের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ
নারায়ণগঞ্জে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের ব্যানারে আয়োজিত এ মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কবি হালিম আজাদ।
কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলো নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি মজিবুল হক পলাশ ও ডেইলি স্টারের নিজস্ব সংবাদদাতা সৌরভ সিয়াম।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও খবরের পাতা সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মাসুম, দৈনিক সংবাদের প্রধান প্রতিবেদক সালাম জুবায়ের, বাংলাদেশ কলামিস্ট ফোরামের মহাসচিব মীর আব্দুল আলীম, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন, সহসভাপতি বিল্লাল হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও শরীফ উদ্দিন সবুজ, কোষাধ্যক্ষ আনিসুর রহমান জুয়েল, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আহসান সাদিক, কবি ও সাংবাদিক কাজল কাননসহ জেলার বিভিন্ন প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
“হামলাকারীরা কোনো রাজনৈতিক শক্তি নয়, তারা দুর্বৃত্ত”
বক্তারা বলেন, “পত্রিকার অফিসে হামলা মানে পুরো বাংলাদেশের ওপর হামলা। এটি গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত। যারা প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার জ্বালিয়ে দিয়েছে, তারা কোনো রাজনৈতিক শক্তি নয়—তারা দুর্বৃত্ত, অপরাধী।”
তারা আরও বলেন, শুধু হামলাকারী নয়, এর নেপথ্যে যারা ইন্ধন জুগিয়েছে, তাদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্য
সভাপতির বক্তব্যে কবি হালিম আজাদ বলেন, “দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি পত্রিকার অফিসে হামলা মানে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। হামলাকারীরা মতপ্রকাশে বিশ্বাস করে না, তারা সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করতে চায়। কিন্তু এদেশে হামলা করে সাংবাদিকতাকে দাবিয়ে রাখা যাবে না—পাকিস্তানিরাও তা পারেনি।”
তিনি অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান।
ব্যাপক উপস্থিতি
মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, সম্পাদক, প্রতিবেদক ও আলোকচিত্রীসহ বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো, আমাদের সময়, জনকণ্ঠ, নাগরিক টিভি, কালের কণ্ঠ, সময় টেলিভিশন, জি টিভি, দেশ টিভি, ঢাকা পোস্ট, জাগো নিউজ, বাংলা নিউজসহ প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার প্রতিনিধিরা।
সাংবাদিক সমাজের স্পষ্ট বার্তা
মানববন্ধন থেকে সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়—
সংবাদপত্রে হামলা মানে রাষ্ট্রের মেরুদণ্ডে আঘাত। গণতন্ত্র ও স্বাধীন মতপ্রকাশ রক্ষায় সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকবে এবং কোনো হামলাই এই কণ্ঠরোধ করতে পারবে না।








Discussion about this post