নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন Drama এখন শুধু স্থানীয় ঘটনা নয় — এটা দলীয় স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক নৈতিকতার মার্কেট প্লেসে পরিণত হয়েছে। যা নির্বাচনকে এগিয়ে নিয়েছে স্বল্পদৃষ্টি, স্বার্থবাদী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নেতাদের ব্যক্তিগত প্রাধান্যের নিয়ন্ত্রিত অগোছালো কাহিনীতে।
১. বিকল্প বক্তৃতা নয়, এটি ‘মনোনয়ন ঝাঁপি’
৩ নভেম্বর বিএনপি ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করার সময় নারায়ণগঞ্জ-৫ মনোনয়ন দেওয়া হয় মাসুদুজ্জামানকে — যার বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতা ও কর্মী স্তর থেকে প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। সাধারণ শোনা গেছে, তিনি কেন্দ্রীয় দলের বাইরে ‘অনুজ’ শক্তির ছত্রছায়ায় থাকা বিতর্কিত ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। দলের নিজস্ব মতামত ও কর্মী মহলের আপত্তিও উপেক্ষিত হয়।
প্রশ্ন থেকে যায় : এমন মনোনয়ন কি আদৌ শুদ্ধ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ফল ? নাকি এটি দলের ভিতরে শক্তি ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের খেলা ?
২. পদক্ষেপের নাটকীয়তা — ‘আপত্তি’ বললেই সিদ্ধান্ত বদল ?
১৬ ডিসেম্বর মাসুদুজ্জামান হঠাৎ নির্বাচন থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন ‘নিরাপত্তা ও পারিবারিক আপত্তি’ বলে। কিন্তু ১৯ ডিসেম্বরে আবার উল্টো ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনে যোগদান করেন।
এখানে প্রশ্নটা সরল :
# একজন প্রার্থী কীভাবে একই কারণে বিড়ম্বনা দাবি করে সরে যায়, তার তিন দিনের মধ্যে আবার সে নিরাপত্তা ও পরিবারের ‘চাপ’ ভুলে নির্বাচনে ফিরে আসে ?
# এই নাটক কি শুধুই রাজনৈতিক কৌশল, নাকি মনোনয়নপত্র বিসর্জনের একটি মাইরা খেলা ?
৩. দলের নেতা থেকে নেতা পর্যন্ত — ‘মনোনয়ন’ ছিনিয়ে নেওয়ার প্রতিযোগিতা
এরপর হিসেব আরও জটিল হয়।
২০ ডিসেম্বর মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান দাবি করেন তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন।
এর চারদিন পরে সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামও একই দাবিতে বেরিয়ে মিছিল করেন, দরগা জিয়ারত করেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় মনোনয়ন ফরম শেয়ার করেন।
এখানে প্রশ্ন জাগে—
# দলের কোনো একক, যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কি জাতীয় স্তর থেকে বাস্তুহারা হয়ে গেছে ?
# নাকি স্থানীয় নেতারা নিজেদের রাজনৈতিক ‘স্ট্যাটাস’ অনুযায়ী আবছা ঘোষণা দিচ্ছেন ?
এমন অস্বচ্ছতার মুখে দলের কর্মী ও জনমনে সরাসরি দ্বিধা ও আক্ষেপ দেখা দিয়েছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নিজেও স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রতীক বরাদ্দের আগ পর্যন্ত মনোনয়ন চূড়ান্ত নয়। অর্থাৎ দলীয় কার্যক্রমের কোনও সুস্পষ্ট সময়রেখা নেই—শুধু বিবৃতি, দাবিদাওয়া, ধারাবাহিক বিপর্যয়।
৪. দলের ভেতরের জনমানসিকতা — শৃঙ্খলার অভাব নাকি স্বার্থের জয় ?
সদ্য মনোনয়ন দাবিদারদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়,
ওই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল প্রথমে মাসুদুজ্জামানকে; পরে শাখাওয়াত হোসেনকে; এবং এখন আবুল কালামকে।
এই ‘চেয়ারম্যানিং’ মনোনয়ন প্রদানের খেলা কি গণতান্ত্রিক দলীয় সংস্কৃতি ? নাকি এটি নেতাদের ইচ্ছেমতো পদচ্যুতির বিরোধে দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে দেওয়া ?
একই সাংগঠনিক পরিবেশে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব তো খোলাখুলি বলেছেন, “এতে নেতাকর্মী ও জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।”
এটাই কি নেতাদের কাছে প্রকৃত গণমানুষ ?
নাকি শুধু নিজের নিজস্ব ধানের শীষ খুঁজে পাওয়া ?
৫. ভোটারদের সামনে দোষী কে ?
যদিও কেন্দ্রীয় বিএনপি থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি — এই উন্মুক্ত সাংগঠনিক মৃত্যুদর্শন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় বিপজ্জনক। ভোটার দলকে দলের কাছেই বিশ্বাস না রাখলে সেই বিশ্বাস স্থানীয় স্তরে কীভাবে দাঁড়াবে ?
একদিকে দল মনে করে মনোনয়ন “ধীরে ধীরে হয়”, অন্যদিকে নেতাকর্মী মনে করে “এটা আসলে দলীয় গঠনতন্ত্রের প্রতি অবমাননা।”
এই দ্বৈত বক্তৃতা :
#মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে “লোকালে ঝামেলা” বানিয়ে দিয়েছে;
# শেখিয়েছে নির্বাচনী সংস্কৃতিকে “ব্যক্তিগত স্বার্থ ও শক্তির খেলাঘর” হিসেবেই দেখার মতো।
শেষ প্রশ্নটা থিতিয়ে যায় :
নারায়ণগঞ্জ-৫ কি বিএনপির জন্য একটি আসন, নাকি একটি পরীক্ষা—যেখানে দল যদি নিজের সিদ্ধান্তহীনতা ও অগোছালো মনোনয়ন নীতিতে পরাজিত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কালো টিকিট কোন মূল্য রাখবে ?









Discussion about this post