নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে একটি আধুনিক অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ও বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ১৮৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৭ হাজার ৮০৯ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথভিত্তিক পণ্য পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ‘নারায়ণগঞ্জের খানপুরে অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ও বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় পূর্ত কাজ-৩ বাস্তবায়নের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ৭টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টেন্ডার ইভ্যালুয়েশন কমিটির (টিইসি) সুপারিশ অনুযায়ী রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকার ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
নির্ধারিত অর্থমূল্য ১৮৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৭ হাজার ৮০৯ টাকা।
উল্লেখ্য, প্রকল্পটির প্রথম সংশোধিত প্রস্তাব চলতি বছরের ১৮ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) থেকে অনুমোদন পায়। প্রকল্পটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
প্রকল্পের আওতায় সিমেন্ট, সার, খাদ্যশস্যসহ বিভিন্ন শুকনা বাল্ক পণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক গুদাম ও ক্যানোপিসহ সিএফএস শেড নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ৬ তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি সরবরাহ ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা স্থাপন, ভূগর্ভস্থ প্রধান বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনসহ বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।
এছাড়া প্রকল্প এলাকায় হাই মাস্ট টাওয়ার, সীমানা প্রাচীর ও নিরাপত্তা আলোকায়ন ব্যবস্থা, সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, লাইটনিং অ্যারেস্টার, আধুনিক সিসিটিভি ব্যবস্থা, সমন্বিত ভবন ব্যবস্থাপনা সিস্টেম (বিএমএস), আসবাবপত্র সরবরাহ এবং রিচ ফর্কলিফট ট্রাকসহ সমগ্র টার্মিনাল এলাকার পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুতায়ন ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহন ও সংরক্ষণ আরও সহজ ও ব্যয় সাশ্রয়ী হবে। একই সঙ্গে নৌপথের ওপর চাপ কমবে এবং দেশের সামগ্রিক লজিস্টিক ও বাণিজ্যিক সক্ষমতা জোরদার হবে।









Discussion about this post