নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি নির্বাচনে আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৩৪১ জন আর তার মধ্যে প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ১১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৩৪ জন নারী।
বিশাল এই নারী ভোটার থাকলেও নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের নির্বাচনে নেই কোন নারী প্রার্থী
নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে দাখিল করা ৫৭টি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৪০ জন প্রার্থীর ৪১টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বিভিন্ন ত্রুটির কারণে ১৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এবার নারায়ণগঞ্জের একজন নারী প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিলেও সেই মনোনয়ন বৈধ হয়নি।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এসব তথ্য জানান জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
তিনি জানান, মোট ৫৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও একজন প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন দুটি আসনে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় মোট মনোনয়নপত্রের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৭টি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রগুলোর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হলফনামা অসম্পূর্ণ, আয়কর বা গ্যাস বিল বকেয়া, ১ শতাংশ ভোটারের তথ্য সঠিক না থাকা এবং রাজনৈতিক দলের সমর্থন না থাকার বিষয়গুলো কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
নারায়ণগঞ্জ-১ আসন
এ আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু (ধানের শীষ), গণ অধিকার পরিষদের ওয়াসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আব্দুল কাইয়ুম শিকদার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইমদাদুল্লাহ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. রেহান আফজাল এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লা।
বাতিল হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ দুলাল (১ শতাংশ ভোটারের তথ্য সঠিক না থাকায়) এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. মনিরুজ্জামান চন্দন (হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায়)।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসন
বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে আছেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ (ধানের শীষ), গণ অধিকার পরিষদের কামরুল মিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. আবুল কালাম, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান খান আঙ্গুর (স্বতন্ত্র), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. হাফিজুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. ইলিয়াস মোল্লা।
বাতিল হয়েছেন বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. আবু হানিফ হৃদয় (ঋণ খেলাপি), স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল আউয়াল ও মো. মিনহাজুর রহমান (১ শতাংশ ভোটারের তথ্য ত্রুটিপূর্ণ) এবং ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ (অসম্পূর্ণ হলফনামা)।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন
বৈধ প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান (ধানের শীষ), জনতার দলের আবদুল করিম মুন্সী, সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন (স্বতন্ত্র), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. শাহজাহান, আমার বাংলাদেশ পার্টির আরিফুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের অঞ্জন দাস, ইসলামী আন্দোলনের গোলাম মসীহ্, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী এবং গণ অধিকার পরিষদের মো. ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী।
হলফনামা অসম্পূর্ণ থাকায় বাতিল হয়েছেন বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম (স্বতন্ত্র)।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন
এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সেলিম মাহমুদ, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাড. আব্দুল্লাহ আল আমিন, ইসলামী আন্দোলনের মো. ইছমাঈল সিরাজী হোসেন কাউছার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন ও ইলিয়াস আহমেদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. সুলাইমান দেওয়ান, সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন (স্বতন্ত্র), মো. শাহ আলম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী এবং বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী।
বাতিল হয়েছেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির ইকবাল হোসেন, সদর উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির (স্বতন্ত্র), গণ অধিকার পরিষদের মহানগর সভাপতি মো. আরিফ ভূইয়া, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. সেলিম আহমেদ এবং জাতীয় পার্টির মো. সালাউদ্দিন খোকা মোল্লা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, নারী প্রার্থী হিসেবে একমাত্র ফাতেমা মনির মনোনয়ন জমা দিলেও তা বাতিল হওয়ায় এ আসনসহ পুরো জেলাতেই কোনো নারী প্রার্থী আর থাকছেন না।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন
বৈধ প্রার্থীরা হলেন খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের আবু নাঈম খান বিপ্লব, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের এইচ এম আমজাদ হোসেন মোল্লা, মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. আবুল কালাম, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মাসুম বিল্লাহ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মন্টু চন্দ্র ঘোষ, গণসংহতি আন্দোলনের তারিকুল ইসলাম সুজন এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী।
বাতিল হয়েছেন বিএনপির আবু জাফর আহমেদ বাবুল ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান (দলীয় সমর্থন না থাকায়), স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাকসুদ হোসেন (হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া) এবং গণ অধিকার পরিষদের মো. নাহিদ হোসেন (অসম্পূর্ণ হলফনামা ও তথ্য গোপনের অভিযোগে)।
নারী প্রার্থী শূন্য নির্বাচন
মনোনয়ন যাচাই শেষে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে বৈধ হওয়া ৪১টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে একজনও নারী প্রার্থী নেই। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এ নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিত্ব পুরোপুরি অনুপস্থিত থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির জানান, বাতিল হওয়া সব প্রার্থী আপিল করার সুযোগ পাবেন। তিনি আরও বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পাঁচজন ইলেক্টোরাল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন।









Discussion about this post