নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাংস্কৃতিক কর্মী তানভীর মোহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার ১০০তম ধার্য তারিখেও তদন্ত সংস্থা র্যাব আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
এক যুগ পার হয়ে গেলেও বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে না যাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ত্বকীর বাবা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি।
তিনি বলেন, “এটি তদন্তকারী সংস্থার চরম ব্যর্থতার প্রমাণ।”
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে।
তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক চন্দ্র মজুমদার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেননি।
এমনকি তিনি আদালতেও উপস্থিত ছিলেন না।
মামলার অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজল আদালতে বলেন, “ত্বকী হত্যার ১২ বছর পার হলেও এখনো অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আগের সরকারের আমলে চার্জশিট আটকে রাখা হয়েছিল। আমরা আশা করেছিলাম অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মামলাটি গতি পাবে। কিন্তু ১০০তম ধার্য তারিখেও তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিট না দেওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক।”
তিনি আরও বলেন, “হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি ও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কেন তদন্ত শেষ হচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়।”
এদিন মামলার আসামিদের মধ্যে ইউসুফ হোসেন লিটন, রিফাত বিন ওসমান, ইয়ার মোহাম্মদ পারভেজ, তায়েফ উদ্দিন জ্যাকি, মামুন মিয়া, কাজল হালদার ও সাফায়ত হোসেন শিপন আদালতে হাজিরা দেন।
অন্যদিকে জামিনে মুক্ত হয়ে পলাতক রয়েছেন সুলতান শওকত ভ্রমর ও সালেহ রহমান সীমান্ত। তাদের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
আদালত এ সময় তদন্ত কর্মকর্তাকে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দেন এবং মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেন আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে নিখোঁজ হন তানভীর মোহাম্মদ ত্বকী। দুদিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওই বছরের নভেম্বরে আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত আদালতে জবানবন্দিতে জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।
ত্বকী হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং দেশের সংস্কৃতি ও মানবাধিকারের ইতিহাসে একটি গভীর ক্ষত হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘদিনেও বিচারিক অগ্রগতি না হওয়ায় ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে জনমনে। দ্রুত অভিযোগপত্র ও বিচার কার্যক্রম শুরু করার দাবিতে আবারও সরব হয়েছেন সাংস্কৃতিক কর্মী ও সচেতন মহল।









Discussion about this post