নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিরাপত্তা অবহেলায় ফের ঝুঁকিতে শ্রমিক জীবন
শিল্পকারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি বহুদিনের। কিন্তু বাস্তবে সেই দাবি যে এখনও উপেক্ষিত, তার আরেকটি প্রমাণ মিলল নারায়ণগঞ্জের বন্দরে।
আকিজ কোম্পানির একটি সিমেন্ট কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত আটজন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন—যা শিল্প খাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভয়াবহ ঘাটতির দিকেই ইঙ্গিত করছে।
আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে সাত টায় বন্দরের কদমরসুল এলাকায় অবস্থিত কারখানার বয়লার কক্ষে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনের একাধিক কক্ষের কাচ ভেঙে পড়লেও, সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হয়েছেন দায়িত্ব পালনরত শ্রমিকরাই।
দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ভাঙা কাচের আঘাতেও আহত হয়েছেন তারা।
পুলিশের পক্ষ থেকে আহতদের ‘আউট অব ডেঞ্জার’ বলা হলেও, প্রশ্ন থেকে যায়—এই দুর্ঘটনা কি অনিবার্য ছিল ? নাকি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, পুরোনো যন্ত্রপাতি, কিংবা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার ফলেই এমন বিস্ফোরণ ঘটেছে ?
শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়লার কক্ষ একটি কারখানার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ। সেখানে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম, নিয়মিত কারিগরি পরীক্ষা এবং প্রশিক্ষিত অপারেটর থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে বহু কারখানায় এসব বিষয় কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ।
এ ঘটনায় আহত শ্রমিকদের প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা দগ্ধের মাত্রা নিরূপণ করছেন। তবে শ্রমিকদের পরিবার এবং সহকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ স্পষ্ট।
শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো মুনাফা নিশ্চিত করতে গিয়ে প্রায়ই নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ কমিয়ে দেয়।
দুর্ঘটনার পর দায়সারা বক্তব্য ও সাময়িক চিকিৎসা সহায়তা দিলেও, প্রকৃত দায় নির্ধারণ কিংবা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা খুব কম ক্ষেত্রেই নেওয়া হয়।
এই বিস্ফোরণ কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়; এটি শিল্প খাতে শ্রমিকদের প্রতি অবহেলার প্রতিচ্ছবি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সব কারখানায় বয়লারসহ ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা মান কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা।
না হলে, ‘আউট অব ডেঞ্জার’ শব্দবন্ধের আড়ালে চাপা পড়ে যাবে শ্রমিক জীবনের মূল্য—আর ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা কেবল সময়ের অপেক্ষা হয়েই থাকবে।









Discussion about this post