নগর প্রতিনিধি :
ফতুল্লায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। রাজনৈতিক কোন্দল, মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের দাপটে পুরো এলাকা কার্যত অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘোরাঘুরি, প্রতিবাদ করলেই প্রাণনাশের হুমকি, এমনকি গভীর রাতে ঘুমন্ত পরিবারের ওপর শক্তিশালী বোমা হামলার ঘটনাও ঘটছে—যা প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ফতুল্লার চিতাশাল মুসলিমপাড়া এলাকায় প্রকাশ্য সন্ত্রাসের এক ভয়ংকর নজির দেখা যায়।
রামদা হাতে প্রকাশ্যে ঘোরাঘুরির প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসীরা গার্মেন্ট শ্রমিক সেলিমের ঘুমন্ত পরিবারের ঘরে শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করে।
বোমা বিস্ফোরণে কেউ হতাহত না হলেও ঘরের থাই গ্লাসের জানালা ভেঙে আসবাবপত্র ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান সেলিম, তার স্ত্রী ও শিশু কন্যা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মুসলিমপাড়া এলাকার ইটালির বাড়ির ভাড়াটিয়া মিজানের দুই ছেলে নাইম (৩৫) ও রোমান (৩০) দীর্ঘদিন ধরে দলবল নিয়ে এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। মাদক কারবার নির্বিঘ্ন রাখতে সন্ধ্যার পর প্রকাশ্যেই রামদার মতো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দেয় নাইম।
শনিবার সন্ধ্যায় হানিফ মিয়ার বাড়ির সামনে একটি চায়ের দোকানে এক হাতে রামদা, অন্য হাতে চা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল সে। এ সময় সেলিম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তাকে কোপানোর চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি ঠেকাতে গিয়ে সেলিমের বাবা হানিফ মিয়া গুরুতরভাবে ছুরিকাঘাতে আহত হন। যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যেই হত্যার হুমকি দেয়।
এরপরই গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে বোমা হামলা চালানো হয়।
বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আশপাশের মানুষ ছুটে এলে সন্ত্রাসীরা আরও উচ্চস্বরে হত্যার হুমকি দিয়ে এলাকা ত্যাগ করে। স্থানীয়দের দাবি, বোমার ভেতরে কাচের মারবেল ব্যবহার করা হয়েছিল, যার আঘাতে দরজায় একাধিক ছিদ্র সৃষ্টি হয়েছে—যা হামলার ভয়াবহতা প্রমাণ করে।
উল্লেখ্য, একই দিন ফতুল্লায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু অভিযান শেষ না হতেই রাতে আবারও সংঘর্ষ ও বোমা হামলার ঘটনা প্রমাণ করে—ফতুল্লায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আব্দুল মান্নান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত বোমার আলামত জব্দ করেছে। অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পরিবারসহ পালিয়ে গেছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—কতদিন এভাবে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে সন্ত্রাসীরা দাপট দেখাবে ? যৌথ বাহিনীর অভিযান কেন স্থায়ী ফল দিচ্ছে না ? ফতুল্লা কি তবে অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে ?
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই চরম অবনতি অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে কোনো সময় আরও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
প্রশাসনের নির্লিপ্ততা আর দেরিতে পদক্ষেপ ফতুল্লাকে ঠেলে দিচ্ছে ভয়াবহ অরাজকতার দিকে—এটাই এখন নগ্ন বাস্তবতা।









Discussion about this post