নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ–সোনারগাঁ) আসনের বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধে হলফনামায় সম্পদ, আয়, ব্যাংক হিসাব ও পারিবারিক তথ্য গোপনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন করেন একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন।
এ বিষয়ে আগামী ১৯ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করেছে কমিশন।
আপিল আবেদনে বলা হয়, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হলফনামা যথাযথভাবে যাচাই না করেই আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
অথচ সঠিকভাবে যাচাই হলে তাঁর মনোনয়ন বাতিলযোগ্য হতো।
গিয়াস উদ্দিনের অভিযোগ, আজহারুল ইসলাম মান্নান স্থাবর সম্পত্তি ও বার্ষিক আয়ের তথ্য গোপন করেছেন।
হলফনামা অনুযায়ী তাঁর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪৪ কোটি ৯৪ লাখ ১১ হাজার টাকা। গত সাত বছরে তিনি ৯৫৬ শতাংশ জমি কিনেছেন এবং বর্তমানে তাঁর মোট জমির পরিমাণ এক হাজার ২৫৯ দশমিক ৬২ শতাংশ। তবে আয়ের উৎস ও পরিমাণে অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত অভিযোগে বলা হয়, তিনি হলফনামায় মাত্র দুটি অ্যাকাউন্টের তথ্য দিয়েছেন। অথচ প্রাইম ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকে থাকা আরও একাধিক অ্যাকাউন্টের তথ্য গোপন করা হয়েছে। তদন্ত হলে বিভিন্ন ব্যাংকে তাঁর অন্তত ১০টি অ্যাকাউন্ট পাওয়া যেতে পারে বলে দাবি করা হয়।
এ ছাড়া পাঁচ সন্তানের জনক হলেও তাঁদের সকলের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের ই-টিআইএন নম্বর ও সম্পদের বিবরণও গোপন রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স একতা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনস’-এর তথ্য ও ব্যাংক হিসাব হলফনামায় উল্লেখ না করার অভিযোগ আনা হয়।
এমন অভিযোগের বিষয়ে আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, তিনি কোনো তথ্য গোপন করেননি। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব তথ্যই হলফনামায় দিয়েছেন।
তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন তদন্ত করলে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের সময় এমন কোনো অভিযোগ তাঁর কাছে আসেনি। আপিল সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের।









Discussion about this post