নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে একটি পিস্তল ও গুলি উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আরও বেশি উদ্বেগজনক বিষয় হলো—অভিযানের পরপরই সংশ্লিষ্ট এক সাবেক ছাত্রনেতা ও তার অনুসারীদের প্রকাশ্য শোডাউন, যা স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে।
গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত মেঘনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে কদমীরচর এলাকার আবুল কাশেমের পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে একটি পিস্তল ও ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এসব অস্ত্র জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে মিল রয়েছে।
অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হলেও তিনি বর্তমানে পলাতক। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—আবুল কাশেম আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মোবারক হোসেনের বাবা।
আড়াইহাজার থানা পুলিশ আবুল কাশেম ও তার পুত্র মোবারক হোসেন পলাতক রয়েছে বলে দাবি করলেও স্থানীয় একাধিক নির্ভরশীল সূত্র জানায়, “পুলিশ মূলত অসহায়। আড়াইহাজার থানা পুলিশ বিএনপি’র প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ এর বিরুদ্ধে কোনভাবেই অবস্থান নিতে সাহস করেন না। আজাদের কৌশলী ধমকে হতভম্ব হয়ে পড়ে পুলিশ। যৌথ বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ছাত্রদল নেতা মোবারক হোসেনের পিতা আবুল কাশেম এর বাড়ি থেকে বিশাল অস্ত্র গুলি উদ্ধার করলেও অধরা রয়ে গেছেন এই পিতা পুত্র। পুলিশ পলাতক দাবি করলেও নজরুল ইসলাম আজাদ এর সাথে যোগাযোগ করে শোডাউন চালিয়ে যাচ্ছে মোবারক হোসেন।”
এমন দাবিও করে পুলিশের অসহায়ের বিষয়টি তুলে ধরে ৩ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের মুঠোফোনের আলোচনায় পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “ভাই, পুলিশ যেমন খুব অসহায় ঠিক তেমনি আড়াইহাজারের সাংবাদিক ভাইয়েরাও অসহায়। আড়াইহাজারের যে কয়জন সাংবাদিক আছেন এত অপরাধ দেখেও কি লিখতে পারেন ? মামলা হামলার ভয় সাংবাদিকদের আছে যার কারণে তারা চুপ করে বসে থাকেন। ঠিক তেমনি নানা ভয়ে ভয়েই কাজ করে পুলিশ। সাবেক পলাতক এমপি নজরুল ইসলাম বাবু হাজার হাজার অপরাধ করলেও কেউ টু শব্দটি করতে পারে নাই ঠিক তেমনি বর্তমান প্রেক্ষাপটে নজরুল ইসলাম আজাদের বিষয় কেউ মুখ খোলার সাহস পারে না।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযানের পর থেকেই মোবারক হোসেন ও তার অনুসারীরা এলাকায় টানা দুই দিন ধরে মিছিল ও শোডাউন করছেন। প্রকাশ্যে এই শক্তি প্রদর্শনের ফলে সাধারণ মানুষ ভীত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
অনেকেই বলছেন, অস্ত্র উদ্ধারের মতো গুরুতর ঘটনার পর এমন প্রকাশ্য শোডাউন কার্যত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল।
এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও শোডাউনের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানিয়েছেন।
অথচ স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শোডাউন ছিল প্রকাশ্য ও একাধিক স্থানে সংঘটিত।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—যেখানে একটি এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারের মতো গুরুতর ঘটনা ঘটে, সেখানে অভিযুক্ত পক্ষের প্রকাশ্য শক্তি প্রদর্শন কীভাবে প্রশাসনের নজরের বাইরে থাকে? রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে কি না, সে প্রশ্নও সামনে আসছে।
সুশাসন ও আইনের শাসনের জন্য প্রয়োজন, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি প্রকাশ্য শোডাউন ও ভীতি সৃষ্টির অভিযোগগুলোরও কঠোরভাবে অনুসন্ধান।
তা না হলে অপরাধ দমনের বদলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা হারাবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
অস্ত্রের রাজনীতি ও শক্তি প্রদর্শনের সংস্কৃতি বন্ধ না হলে আড়াইহাজারের মতো জনপদে স্বাভাবিক জীবনযাপন ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়বে—এটাই আজকের বাস্তবতা।









Discussion about this post