নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের মহানগরীর মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রায়হান মোল্লা ওরফে রেহান (৪৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী।
এর আগে, গত ১২ জানুয়ারি রাত থেকে ফতুল্লা থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—শরিফ (১৮), রুহুল আমিন (৩৫), মো. আলী (৪৮) ও সজিব (২৪)। তারা সবাই ফতুল্লা থানার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গত ১২ জানুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে ফতুল্লা থানার নিউ চাষাঢ়া এলাকার ইসদাইর বাজার রোডে মুন্সির খুশবু হোটেলের সামনে রায়হান মোল্লাকে রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, ছোরা ও চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হামলার পর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা রায়হানকে উদ্ধার করে খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই রমজান হোসেন বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় মাদক ব্যবসায়ী রাজ্জাকসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও ৪ থেকে ৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব জেলা গোয়েন্দা শাখার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, গ্রেপ্তারকৃত শরিফকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অপর তিন আসামিকে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে তাদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশে রিমান্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মামলার পলাতক ও অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।









Discussion about this post