নগর প্রতিনিধি :
র্যাব পরিচয়ে নারায়ণগঞ্জের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় জড়িত অন্যতম আসামি মো. বেল্লাল খান তুহিন (৩৮) কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।
এ সময় তার কাছ থেকে ছিনতাইকৃত নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও একটি সোনার আংটি উদ্ধার করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী থানাধীন মাতুয়াইল এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জ শহরের কালিরবাজার স্বর্ণপট্টির হাজী জুয়েলারীর মালিক মনিরুল ইসলাম তার বড় ভাই মোজাম্মেল হক হুমায়ুন (৫২) ও ভাগিনা ফজলে রাব্বি (২৮)-কে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মার্কেটের স্বর্ণ শিল্পালয়ে স্বর্ণ বিক্রির জন্য পাঠান।
সেখানে স্বর্ণ বিক্রি করে তারা নগদ ৮০ লাখ টাকা নিয়ে দুপুরে গুলিস্তান থেকে ‘শ্রাবণ পরিবহন’ নামের একটি বাসে করে নারায়ণগঞ্জে ফিরছিলেন।
বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে বাসটি মাতুয়াইল দা ওয়ান রেস্টুরেন্টের সামনে পৌঁছালে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস এসে চলন্ত বাসটির গতিরোধ করে। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে দুই ব্যবসায়ীকে টাকার ব্যাগসহ বাস থেকে নামিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়।
পরে তাদের মারধর করে গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দ সেতুর নিচে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ রাত ১১টা ৩২ মিনিটে র্যাব-১১, সিপিএসসি, নারায়ণগঞ্জ এবং র্যাব-৮, সিপিসি-১, পটুয়াখালীর যৌথ অভিযানে পটুয়াখালী জেলার দশমিনা থানাধীন নলখোলা এলাকা থেকে মো. বেল্লাল খান তুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়ীয়া থানার বড়শৌলা গ্রামের বাসিন্দা।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ছিনতাইকৃত ২ লাখ ৩৭ হাজার ৯১০ টাকা, একটি আইফোন ১৬, একটি ভিভো স্মার্টফোন, একটি সিম্ফনি বাটন মোবাইল এবং একটি সোনার আংটি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেল্লাল ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব আরও জানায়, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।









Discussion about this post