নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জ
শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে সঙ্গী করেই জীবনের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন অটোরিকশাচালক সোহেল (৪১)।
সংসারের একমাত্র ভরসা হয়ে প্রতিদিনের মতো সেদিনও অটোরিকশা নিয়ে বেরিয়েছিলেন জীবিকার সন্ধানে। কিন্তু আর ফেরা হলো না তার। নিষ্ঠুরভাবে তাকে হত্যা করে ছিনিয়ে নেওয়া হলো তার একমাত্র সম্বল—অটোরিকশাটি।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে সংঘটিত এই হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মোঃ সুজন মিয়া (৩৩), মোঃ শফিকুল ইসলাম হীরা (৩৯), মোঃ দুলাল মিয়া (৪৫), মোঃ রহিম মিয়া (৫৫) ও মোঃ আবুল কাশেম (৪০)।
পিবিআই জানায়, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে যাত্রীবেশে সোহেলের অটোরিকশায় ওঠে সুজন ও হীরা।
পথিমধ্যে কোমল পানীয় ‘স্পিড’-এর সঙ্গে কাশির সিরাপ মিশিয়ে সোহেলকে পান করানো হয়। অচেতন হয়ে পড়লে তার হাত-পা ও মুখ কস্টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর সড়কের পাশে তার নিথর দেহ ফেলে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতকরা।
নিহত সোহেল সোনারগাঁও থানার সাদিপুর ইউনিয়নের নয়াপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং হাবিবুর রহমানের ছেলে।
পরিবার জানায়, গত ১৯ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা চালাতে বের হন। রাত গড়িয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবার। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় তারা।
পরদিন ২০ জানুয়ারি সকালে লোকমারফত খবর আসে— জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর গ্রামের তিলাবু–মুছারচর সড়কের পাশে একটি মরদেহ পড়ে আছে। সেখানে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা সোহেলের মরদেহ শনাক্ত করেন। মুহূর্তেই শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মহসিন মিয়া বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পিবিআইয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন মিয়া ও শফিকুল ইসলাম হীরা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যে অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত দুলাল মিয়া, রহিম মিয়া ও আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত সোহেলের পরিবার এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার এই ঘটনা সমাজকে নতুন করে নাড়া দিয়েছে—নিরাপত্তা, মানবতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।








Discussion about this post