নগর প্রতিনিধি :
আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে বন্দর থানা জাতীয় পার্টির যুব সংহতির সভাপতি মোহাম্মদ সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে।
একাধিক সূত্রের দাবি, অতীতে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে গা ঢাকা দিলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে তিনি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওসমান পরিবারের সদস্যসহ তাদের ঘনিষ্ঠ অনেক নেতাকর্মী এলাকা ছাড়লেও, সেই শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বন্দর থানা জাতীয় পার্টির কিছু নেতাকর্মী ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে তথাকথিত স্বতন্ত্র প্রার্থী, ‘ফুটবল’ প্রতীকের মাকসুদ হোসেনের পক্ষে গোপন বৈঠক করছেন সোহেল মিয়া ও তার ঘনিষ্ঠরা।
বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র জানায়, বন্দর উপজেলাবাসীর চোখ এড়িয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি এলাকায় এসব বৈঠক নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি স্থানীয় রাজনীতিতে এক ধরনের ‘ছায়া সমঝোতা’ রাজনীতির ইঙ্গিত দেয়, যেখানে প্রকাশ্যে অস্বীকার করলেও আড়ালে জোটবদ্ধ তৎপরতা চলতে পারে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সোহেল মিয়া।
একাধিকবার যোগাযোগের পর তিনি বলেন, “আমি ওসমান পরিবার তথা শামীম ওসমান, আজমেরী ওসমান এবং তার মায়ের পক্ষে রাজনীতি করেছি—এটা সত্য। কিন্তু এখন ফুটবল প্রতীকের পক্ষে আমি কোনো নির্বাচনী কার্যক্রমে জড়িত নই।”
তার এই বক্তব্য এবং মাঠপর্যায়ে ওঠা অভিযোগের মধ্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
প্রশ্ন উঠছে—যদি সম্পৃক্ততা না-ই থাকে, তাহলে গোপন বৈঠকের অভিযোগ কেন বারবার উঠছে ? কার স্বার্থে চলছে এই সমন্বয় রাজনীতি ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থে প্রভাব বিস্তার এবং নির্বাচনের আগে নীরব সমঝোতার রাজনীতি গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া এমন কর্মকাণ্ড ভোটারদের আস্থায় আঘাত হানতে পারে।
বন্দর ও নারায়ণগঞ্জবাসী এখন স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রকাশ্য অবস্থান প্রত্যাশা করছেন—রাজনীতি কি আদর্শের, নাকি শুধুই প্রভাব ও প্রতীকের ছদ্মবেশে ক্ষমতার খেলা ?









Discussion about this post