নগর প্রতিনিধি :
শুল্ক কর ফাঁকি দিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। অভিযানে প্রায় ৯ কোটি ৯৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের শাড়ি উদ্ধার করা হয় এবং একজন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে, রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কোস্ট গার্ড স্টেশন পাগলার একটি দল নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি সন্দেহজনক কাভার্ডভ্যান থামিয়ে তল্লাশি করে। এ সময় ভ্যানের ভেতর থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ শাড়ি উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, এসব শাড়ি দেশের বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচার করা হচ্ছিল। অভিযানে কাভার্ডভ্যানসহ একজনকে আটক করা হয়। জব্দকৃত শাড়ি বংশাল সার্কেল কাস্টমসের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং আটক ব্যক্তি ও ব্যবহৃত যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ফতুল্লা থানায় হস্তান্তর করা হবে।
দীর্ঘদিনের অভিযোগ, প্রশ্নবিদ্ধ নজরদারি
নারায়ণগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তঘেঁষা ও নদীপথকেন্দ্রিক চোরাচালান রুট হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের অভিযোগ—শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য বছরের পর বছর বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে দেশে প্রবেশ করছে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারি ও কার্যক্রম কতটা কার্যকর ছিল ?
সোনারগাঁ ও ফতুল্লা থানা এলাকা, কাঁচপুর ব্রিজ সংলগ্ন অঞ্চল এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন করিডরগুলো দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। এত বড় অঙ্কের পণ্য যদি নিয়মিতভাবে দেশে প্রবেশ করে থাকে, তবে তা প্রতিরোধে সমন্বিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারির ঘাটতি ছিল কি না—এ প্রশ্ন এখন স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে।
এককভাবে সক্রিয় কোস্ট গার্ড ?
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় অঙ্কের চোরাচালান পণ্য জব্দের ঘটনায় কোস্ট গার্ডের তৎপরতা দৃশ্যমান হলেও, অন্যান্য সংস্থার বড় ধরনের সাফল্য তুলনামূলকভাবে কম চোখে পড়ে—এমন আলোচনা জনমনে রয়েছে। এতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য কিংবা অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
যদিও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবুও নিয়মিত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বড় নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।
প্রয়োজন জবাবদিহিতা ও সমন্বিত অভিযান
বিশেষজ্ঞদের মতে, চোরাচালান প্রতিরোধে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বিত ব্যবহার, নিয়মিত মনিটরিং, আর্থিক লেনদেনের অনুসন্ধান এবং রুটভিত্তিক কঠোর নজরদারি। একইসঙ্গে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায় নির্ধারণের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
কোস্ট গার্ডের সাম্প্রতিক অভিযান প্রমাণ করেছে—সদিচ্ছা ও কার্যকর পরিকল্পনা থাকলে বড় ধরনের চোরাচালান রোধ সম্ভব। এখন দেখার বিষয়, অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও সমন্বিতভাবে মাঠে নেমে এ ধরনের অবৈধ বাণিজ্য চক্র স্থায়ীভাবে দমনে কতটা দৃশ্যমান ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা রাখতে পারে।









Discussion about this post