বিশেষ প্রতিবেদক :
নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তার নীরব প্রস্থান এখন জনমনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়–সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের হঠাৎ দেশত্যাগ কেবল ব্যক্তিগত সফর নয়—এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে।
আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) সকালে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে দুবাই হয়ে নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে তার যাত্রা ছিল বহুদিনের গুঞ্জনের বাস্তব রূপ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই অন্তর্বর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলে উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ফয়েজ তৈয়্যবের দেশত্যাগ ঘটনাটিকে নিছক কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন।
প্রশ্ন উঠছে—যখন নতুন সরকার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে, তখন প্রযুক্তি খাতের মতো স্পর্শকাতর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা একজন শীর্ষ সহকারীর আকস্মিক প্রস্থান কী বার্তা দেয় ?
তিনি নেদারল্যান্ডসের নাগরিক, এ তথ্য আগেই জানা ছিল।
কিন্তু প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থেকে ব্যক্তিগত পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশযাত্রা, জিও সঙ্গে না থাকা এবং পরে ফোনে জিও জারি করিয়ে সফট কপি দেখিয়ে ইমিগ্রেশন পার হওয়া—এসব বিষয় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার মানদণ্ড নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
এখানে আইন ভঙ্গ হয়েছে কি না, সেটি তদন্তসাপেক্ষ। তবে প্রশ্ন হলো—রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ‘সবকিছু নিয়মমাফিক’ থাকার যে নৈতিক প্রত্যাশা, সেটি কি পূরণ হয়েছে ?
সরকারি আদেশ হাতে না থাকা সত্ত্বেও তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া এবং পরবর্তীতে কাগজপত্র ঠিক করে নেওয়ার সংস্কৃতি কি প্রশাসনিক শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ?
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রযুক্তি খাত পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে তাকে অন্তর্বর্তী সরকার দেশে এনেছিল। এক বছরের মাথায় সেই কর্মকর্তারই প্রস্থান নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। প্রযুক্তি খাতের সংস্কার, নীতিনির্ধারণ ও সমন্বয়ের যে ধারাবাহিকতার কথা বলা হয়েছিল, তা এখন প্রশ্নের মুখে।
জনগণের করের টাকায় পরিচালিত প্রশাসনে উচ্চপদে থেকে দায়িত্ব পালন মানে কেবল পদমর্যাদা নয়, বরং নৈতিক দায়বদ্ধতা।
তাই ফয়েজ তৈয়্যবের দেশত্যাগ আইনি বাধাহীন হলেও নৈতিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দায়িত্ববোধ নিশ্চিত না হলে ‘গুঞ্জন’ই একসময় বাস্তবতার বিকল্প বর্ণনা হয়ে দাঁড়ায়।
সরকারের উচিত এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া—এটি কি পূর্বনির্ধারিত ছুটি, দায়িত্ব হস্তান্তর-পরবর্তী প্রস্থান, নাকি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় কৌশলগত সরে দাঁড়ানো ?
নীরবতা এখানে সন্দেহই বাড়াবে। কারণ জনআস্থার জায়গায় যখন ফাঁক তৈরি হয়, তখন প্রশাসনিক পদক্ষেপ যতই নিয়মতান্ত্রিক হোক, তা আর বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় না।








Discussion about this post