নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দুর্নীতি দমনে প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার হলেও বাস্তবে সেই চক্র যেন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
একের পর এক অভিযান, পরিদর্শন ও বদলির পরও থামছে না ঘুষ, চুরি ও প্রভাবশালী দখলদারদের দৌরাত্ম্য—এমন অভিযোগ এখন সর্বত্র।
সম্প্রতি ভূমি অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়।
ভূমি প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনে সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিসে তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হয়।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে—এই বদলিই যেন দুর্নীতির চক্র ভাঙার বদলে নতুন করে শক্তিশালী করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, নতুনভাবে পদায়ন পাওয়া ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র দেবনাথ মধ্যরাতে প্রায় ২০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে এই পদ নিশ্চিত করেন।
জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তার ডাকবাংলোতে ওই লেনদেন সম্পন্ন হয় বলেও দাবি করা হচ্ছে।
এমনকি ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় এক প্রতিবেদকের মুখোমুখি হলে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অর্থ ও প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয় প্রভাবশালী ক্রসফায়ারে নিহত টাওয়ার সেলিমের ভাগিনা সুজনের প্রকাশ্যে ঘুষের টাকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ ও সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত তার পদায়ন ঠেকানো যায়নি।
এদিকে, একই সময়ে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের অনিয়ম সামনে এসেছে। ৭২ হাজার লিটার তেলচুরির ঘটনায় যখন এলাকায় চাঞ্চল্য, তখনই অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আকস্মিকভাবে সিদ্ধিরগঞ্জে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড-এর ডিপো পরিদর্শন করেন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এসও এলাকায় অবস্থিত ডিপোতে পৌঁছে সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে জ্বালানি সরবরাহ প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা বা অনিয়ম আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন—চোরাই তেল সরবরাহ, অবৈধ ক্রয়-বিক্রয় কিংবা মজুদের সঙ্গে জড়িত যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন এবং সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল বারিক জানান, প্রতিমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শন জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে।
তবে ডিপোর ইনচার্জ মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের একদিকে অভিযান ও কঠোর বার্তা থাকলেও অন্যদিকে ঘুষ, প্রভাব ও সিন্ডিকেটের কারণে সেই উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে ভেস্তে যাচ্ছে। ভূমি অফিস থেকে শুরু করে জ্বালানি ডিপো—সবখানেই একই চক্র সক্রিয় বলে তারা দাবি করছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু বদলি বা পরিদর্শন দিয়ে নয়—দুর্নীতির মূল শিকড় উপড়ে ফেলতে হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সিদ্ধিরগঞ্জে দুর্নীতির এই ‘চক্রব্যূহ’ ভাঙা কঠিন হয়ে পড়বে।








Discussion about this post