ছুটির দিন শুক্রবার একটু বিশ্রাম নিতে বিকেলেই ঘুমিয়ে পরেন গৃহবধূ সম্পা। বিশ্রামের বেঘাত যাতে না ঘটে সে জন্যই স্ত্রীকে ঘুম থেকে না ডেকে ঘরের বাইরে তালা দিয়ে মসজিদে যাওয়ার পর ঘটে গেলো নির্মম অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। আর এমন আগুনে পুড়ে দগ্ধ হয়ে যায় সম্পা। স্ত্রী সম্পার পোড়া লাশ দেখে হতবাক স্বামী সুমন মিয়া
এনএনইউ ডেক্স :
সদর উপজেলার ফতুল্লায় ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রীকে তালা মেরে বাইরে নামাজের জন্য মসজিদে গিয়েছিলেন স্বামী।
আর ওই সময়েই ঘটে অগ্নিকান্ডের ঘটনা। আগুনে পুড়ে যায় ওই ঘর সহ অন্তত ২০টি বসত ঘরে। অন্য ঘরের সকল আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয় আর মারা যায় ঘুমিয়ে থাকা সেই স্ত্রী । বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকায় বের হতে পারেননি তিনি।
২২ নভেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকার ইউনুছ সর্দারের টিনের দু’তলা বাড়িতে রহস্যজনক এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার নাহিদা বারিক সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছে।
নিহত গার্মেন্টকর্মী সম্পা আক্তার (২০) ওই বাড়ির নিচ তলার ভাড়াটিয়া সুমন মিয়ার স্ত্রী। তাদের মধ্যে সম্পা আক্তার মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার পলমা গ্রামের সোহরাব মিয়ার মেয়ে এবং সুমন জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার ফৈটামারী গ্রামের বাসিন্দা। এক বছর পূর্বে তাদের বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর থেকে তারা ফতুল্লার এ বাড়িতে বসবাস করে গার্মেন্টে কাজ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ফতুল্লার বিসিক ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোঃ কাজল মিয়া জানান, শুক্রবার মাগরিবের নামাজের সময় ওই বাড়ির নিচ তলার ভাড়াটিয়া সুমন মিয়া তার গার্মেন্টকর্মী স্ত্রী সম্পা আক্তারকে ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে বাহির থেকে দরজায় তালা দিয়ে মাগরিবের নামাজ পড়তে মসজিদে যায়। এর কিছুক্ষন পরই সুমনের ঘর থেকে সূত্রপাত আগুন পুরো বাড়ি ছড়িয়ে পড়ে। এসময় সম্পা ঘরেই দগ্ধ হয়ে মারা যায়। পরে তার লাশ উদ্ধার করে শহরের জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, খবর পেয়ে দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে তদন্ত চলছে।









Discussion about this post