এনএনইউ রিপোর্ট :
নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ছাড়াও বাণিজ্যিক এলাকা বঙ্গবন্ধু সড়ক, কালীর বাজার ও বাসস্ট্যান্ডে প্রকাশ্যে চলছে জুয়ার আসর। এ ছাড়াও গত সোমবার রাতে বন্দর এলাকার খোদ জাতীয় পার্টির কার্য্যালয়ের আন্ডার গ্রাউন্ডে এমন জুয়ার আসরে হানা দেয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা। জুয়ার বিশাল কর্মযজ্ঞ দেখে হতভম্ব হয়ে পারে পুলিশের সদস্যরা । আটক করা হয় ৮/১০ জন জুয়ারী ও জুয়ার আসরের কয়েকজন পরিচালনাকারীকে।
ডিবি পুলিশ আটককৃতদের হাজতে প্রবেশ করানোর পূর্বেই বিশাল প্রভাবশালীদের তদ্বিরে ছাড়া পেয়ে যায় জুয়ারীরা । এমন ঘটনায় ব্যাপক সমালোচানার সৃস্টি হয় শহর জুড়ে।
স্বেচ্ছায় জবানবন্দি প্রদান কারী এক জুয়ারীর ভিডিও থেকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের বাসস্ট্যান্ড, কালীরবাজার , ডিআইটি ও বিশেষ বিশেষ ক্লাবে দিন রাত ২৪ ঘন্টাই পালাক্রমে জুয়া চালিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালী বিশেষ পেশার নামধারী একটি চক্র । প্রতিদিন প্রতিটি জুয়ার আসর থেকে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা পরিচালনাকারী এই প্রভাবশালী চক্রের হাতে আসলেও এই বিশাল টাকার ভাগভাটোয়ারা হচ্ছে কয়েকটি মাধ্যমে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে সদ্য যশোর জেলায় যোগদানকারী নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আবদুর রাজ্জাক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জে যা খুশি তাই করা যায় ! যেমন শহরের কয়েকটি জুয়ার আসরের মধ্যে কালীর বাজারের কয়েকটি জুয়ার আসর ও বাসস্ট্রান্ডের জুয়ার আসর থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন টেবিলে নিয়মিত ভাগবাটোয়ারা প্রদান করে থাকে । জেলা ডিবি পুলিশের একেকটি টিমে ১০ হাজার টাকা প্রদান করে নিয়মিত। আর বিশাল অংকের বাকী টাকা বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজন নিয়মিত হাতিয়ে নিচ্ছে। এমন একটি অভিযোগ স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইজিপি অফিস হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানাকে তদন্তের দায়িত্ব দিলে বেড়িয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তখন কয়েকজন বিশেষ পেশার প্রভাবশালী একটি চক্র নানাভাবে তদ্বির চালায় যাতে এমন অভিযোগের কোন রিপোর্ট প্রকাশ না করা হয়। এরপর থেকেই নিয়মিত কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিশাল টাকা মাসোয়ারা দিয়ে আসছে।
জুয়া পরিচালনাকারী এক নারী ব্যবসায়ীদের দালাল অকপটেই প্রতিবেদকের সাথে আলোচনার এক পর্যায়ে কাছে স্বীকার করে নারায়ণগঞ্জের জুয়ার টাকা শহরের অনেক রাঘব বোয়ালদের হাতে যায় নিয়মিত । ৫টি ভিডিওতে দেখা যায় নিয়মিত কাকে কাকে টাকা দেয়া হয় । কে কে এই টাকার বাগবাটোয়ারা পেয়ে থাকে এমন বিস্তর তথ্য প্রকাশ করে জুয়া পরিচালনাকারী রাজা মিয়া। প্রতিদিন নিম্নে ২ (দুই) লাখ টাকা চাঁদা উঠে জুয়ার বোর্ড থেকে । এই টাকা একটি এসোসিয়েশনের নামে জমা হলে সেই টাকার ভাগ সকলের কাছে পৌছে দেয়া হয়। উত্তোলিত বিশাল এই টাকায় শহরের কয়েকটি বিশেষ পেশাধারীদের অফিসে দুপুরের খাবার, সিগারেরেটের প্যাকেট পৌছে দেয়া হয় জুয়ার আসরের বয় বেয়ারাদের মাধ্যমে।
নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তাও তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একজন গৃহবধুর অভিযোগের প্রেক্ষিতে শহরের কয়েকটি জুয়ার আসরে অসংখ্যবার গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালানোর পর প্রভাবশালীদের নানা তদ্বিরে জুয়ার আসর থেকে থেকে আটককৃতদের ছেড়ে দিতে হয় । এরপরও থামানো যায় নাই শহরের জুয়া। অভিযোগকারীনীর স্বামী একজন সরকারী চাকুরীজীবী হয়েও নিয়মিত জুয়া খেলে সর্বস্ব শেষ করে ফেলেছে। এমন পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে অভিযান চালিয়ে আমরা শেষ পর্যন্ত আর এই জুয়া বন্ধ করতে পারি নাই।
বন্দর থেকে জুয়ারীদের আটকের ঘটনায় ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা অসহায়ত্ব প্রকাশ করে জানান, আমরা ভাই অসহায়। ছেড়ে দিতে হয়েছে প্রভাবশালীদের তদ্বিরে। (আরো বিস্তারিত আসছে)









Discussion about this post