এনএনইউ রিপোর্ট :
শহরের কালীর বাজারস্থ দেলোয়ার টাওয়ারে চারটি সর্টগাণ নিয়ে হামলা, ভাংচুর. ফ্ল্যাটের মালিকদের টাকা লুটপাট ও পরিবারের লোকজনকে শ্লীলতাহানীর ঘটনায় আটককৃত চার অস্ত্রধারীসহ ছয় জনের নাম উল্লেখ করে গতকাল শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেছে ফ্ল্যাট মালিক মাসন দাস ।
মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে দেলোয়ার টাওয়ারের মালিক মৃত আলী আহমেদ মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৫৫) কে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। সর্টগাণসহ আটককৃত মোহসিন আলী, ওহিদুজ্জামান মোল্লা, লেলিন ও কামাল হোসেনকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠিয়েছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক তাহিদ উল্লাহ।
ফ্ল্যাট মালিক মানস দাস তার অভিযোগে উল্লে
খ করেন, দেলোয়ার টাওয়ারের ৪৪ টি পরিবার নিরাপত্তাহীনতার কারণে লিফটে ও সিঁড়ি কোটায় কলাপসিবল গেইট স্থাপন করে। ফ্ল্যাট মালিকদের কাছে বিক্রি করা ভবনের জায়গায় নতুন করে দোকান নির্মান করে ভাড়া দেয় দেলোয়ার। এ নিয়ে জেলা প্রশাসক, রাজউক ও থানা পুলিশকে বারবার অবহিত করলেও দেলোয়ার তা কর্ণপাত না করে নানাভাবে টালবাহানা করতে থাকে। এক পর্যায়ে গত রোবাবার দুপুরে ফিল্মি স্টাইলে দেলোয়ারসহ আরো ১০/১১ জন অস্ত্র নিয়ে ভবনের কলাপসিবল গেইট ভেঙ্গে তান্ডব চালায় । এতে বাধা দিলে বাদী মানস দাসকে মারধর করে টাকা নিয়ে যায়। অপর ফ্ল্যাটের মালিক হাবিব খানের ফ্ল্যাটে ভাংচুর করে হাবিব খানকে মারধর করলে তার স্ত্রী এগিয়ে এলে তাকেও শ্লীলতাহানী ঘটনায় অস্ত্রধারীরা।
এ ঘটনায় পুলিশ এসে নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর থানার সোনাপুর গ্রামের মৃত মনসুর আলীর মন্ডলের ছেলে মোহসিন আলী (৩৫), নড়াইল জেলার কালিয়া থানার কুলশুর গ্রামের মৃত আবু তালেব মোল্লার ছেলে ওহিদুজ্জামান মোল্লা (৩৮), নোয়া গ্রামের জাফর মিয়ার পুত্র লেলিন (৪০) ও বিলব্যাউচ গ্রামের মৃতঃ বাচ্চু মিয়া মোল্লার ছেলে কামাল হোসেন (৪০) কে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনার সময় দেলোয়ার টাওয়ারের মালিক দেলোয়ার ও তার গাড়ী চালক শহিদুল ইসলাম মল্লিক (৪০) পালিয়ে যায়। অস্ত্র নিয়ে এমন ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃস্টি হয়েছে শহরের সর্বত্র।
গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তাদেরকে রোববার সকালে দেলোয়ারের বডিগার্ড হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পর তাদেরকে এই ভবনে এনে এমন ঘটনা ঘটালেও তারা এ বিষয়ে কিছুই জানে না।
মামলা দায়েরের ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন নানাভাবে ঘটনা ধামাচাপা দিতে পুলিশের উদর্ধতন কর্মকর্তা, বিশেষ পেশার এবং রাজনীতিবিদদের মাধ্যমে নানাভাবে অপচেস্টা চালায় এই মামরার প্রধান আসামী দেলোয়ার । সকাল থেকেই দেলোয়ার ঘনিস্ট আত্মীয় সজনদের মাধ্যমে থানায় তদ্বির অব্যাহত রেখেছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, আসামীদের আরো তথ্য জানতে এবং আটককৃতদের কাছ থেকে ৪ টি সর্টগান ৩৫ রাউন্ড কার্তুজের বিস্তারিত কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ডে আসার পর বিস্তারিত জানা যাবে ।









Discussion about this post