নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট :
জেলার ক্রাইমজোন হিসেবে পরিচিত সদর উপজেলার কাশিপুরে এবার প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে শরীফ হোসেন (২৮) নামের এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বুকের মধ্যে একটি মাত্র ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা ।
এই হত্যাকান্ডের মূল হোতা ও মাষ্টার মাইন্ডার শামীম মেম্বারসহ তার বাহিনী প্রকাশ্যে ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে জোড়ালোভাব । স্থানীয় নানা অপকর্মের হোতা শামীম মেম্বারের নিয়ন্ত্রিত বাহিনীর বিরুদ্ধে এর আগেও অনেক অভিযোগ রয়েছে ।
নিহত শরীফ হোসেন একজন টিভি ফ্রিজ ব্যবসায়ী এবং কাশিপুর আদর্শনগর এলাকার আলাল মাদবরের পুত্র ।
বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় ফতুল্লা থানাধীন বাড়ৈইভোগ আদর্শনগরের বাড়ী থেকে এলাকার প্রভাবশালী দূর্ধর্ষ মাষ্টার মাইন্ডার শামীম মেম্বারের সক্রিয় সদস্য সাকিল (১), শাকিল (২) লিমন, আশিক, লালন, সুরুজ ও রাজুসহ আরো কয়েকজন ব্যবসাযী শরীফকে ডেকে পাশ্ববর্তী বালুর মাঠে নিয়ে আনে।
পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শুরু হয় তর্ক বিতর্ক । এমন ঘটনা অনেকের চোখে পরলেও কেউ সাহস করে কোন কথা বলতে পারে নাই । এক পর্যায়ে কোমড়ে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে বুক বরাবর আঘাৎ করলে মাটিতে লুটিয়ে পরে শরীফ । এমন ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা । লোকজন এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে পুলিশে খবর দেয় ।
খবর পেয়ে প্রথমে সদর থানার পুলিশের উপ পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান লাশ গ্রহণ করেন। ঘটনার বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিহত শরীফের বুকে একটিই ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে । তবে ছুরির আঘাতের চিহ্নই প্রমাণ করে এই হত্যাকান্ড টি পূর্ব পরিকল্পিত ।
সুরৎহাল রিপোর্ট তৈরীর পর ফতুল্লা ও সদর থানা পুলিশ নিহত শরীফের লাশ উদ্ধার ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর আদেশ দেয় ।
হাসপাতালের মর্গের সামনে শরীফের মা রহিমা বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে গণমাধ্যমকর্মীদেরকে জানান, তার ছেলে এলাকায় ইন্টারনেটের ব্যবসা করতেন । গত দুই মাস আগে তাকে বিয়ে করানো হয়েছিল।
নিহতের মায়ের দবি, তার ছেলে বিএনপি করে ব্যবসা করে এটা মেনে নিতে পারছিলেন না বড় শাকিল, ছোট শাকিল, লালন, লিমন, ইমনসহ আরও কয়েকজন। প্রায় সময় তার কাছ থেকে তারা টাকা চাইতো । এছাড়াও মেম্বার শামীমের কথা কেউ না মানলে তারা এলাকায় মানুষকে মারধর হুমকি ধামকি দিত। এমন একটি ঘটনার প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসীরা শরীফের উপর ক্ষুব্ধ ছিল। সে ক্ষোভ থেকেই তারা শরীফকে ডেকে নিয়ে খুন করে ।
হাসপাতালে উপস্থিত অনেকেই বলেন, মেম্বার শামীম, তার ভাই হারুন, দরবেশ, জামান ও তাদের নিয়ন্ত্রিত বাহিনীর বিরুদ্ধে ভোলাইল ও আশেপাশের পুরো এলাকায় কেউ কোন টু শব্দ করার সাহস করে না । এই চক্রটি এলাকায় চাঁদাবাজি, খুন খাবাপি, লুটপাটসহ এমন কোন অপরাধ নাই যা তাদের দ্বারা সংগঠিত হয় না । এর আগেও কয়েকটি হত্যার মূল মাষ্টার মাইন্ডার শামীম ও তার ভাই হারুন।
এমন খুনের ঘটানয় ক্ষুদ্ধ এলাকার অনেকেই জানায়, এলাকার আধিপত্য নিয়ে মেম্বার শামীম, হারুন, দরবেশ ও জামান বাহিনীর বড় শাকিল, ছোট শাকিল, লালন, লিমন, ইমনদের সাথে শরীফের দ্বন্দ্ব ছিল। তবে, সে বিএনপির সমর্থক থাকলেও এর আগে প্রায় সময় এই গ্রুপের লোকজনদের সাথে আওয়ামী লীগের মিছিল মিটিংয়ে সে গিয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে মত পার্থক্য দেখা দিলে তারা আলাদা হয়ে যায়। এ নিয়ে শরীফের উপর ক্ষুব্ধ হয় তারা ।
এলাকার রাম রাজত্বের হোতা চার ভাই হারুন, শামীম, দরবেশ ও জামান জাতীয় পাটি ক্ষমতাসীন থাকাবস্থায় খোকা মোল্লার রাজনীতি করলেও পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের শাসনামলে জাকির খানের হাত ধরে বিএনপির রাজনীতি শুরু করে । এ সময় চাঞ্চল্যকর হালিম মার্ডার করে এলাকায় শুরু করে আধিপত্য । এরপর আওয়ামীলীগ ক্ষমতাসীন হলে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম সাইফ উল্লাহ বাদলের হাত ধরে শুরু করে সকল ধরণের অপরাধ । চাঁদাবাজির প্রমাণ রেখেই চেকের মাধ্যমে বিশাল চাঁদা গ্রহণ করলেও এ বিষয়ে সাইফ উল্লাহ বাদল ছিলো বরাবরই নিশ্চুপ । কনক গার্মেন্টসের মতো সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিমাসে নগদ বিশাল চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে শামীম – হারুন বাহিনীর বিরুদ্ধে ।
কিছুদিন মেম্বার শামীম বাহিনীর বড় শাকিল, ছোট শাকিল, লালন, লিমন, ইমনদের সাথে শরীফের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনা নিয়ে কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ বাদল বিচার শালিসও করেছিলন। ওই বিচারে শরীফের বাবা আলাল মাতব্বরকেও চড় থাপ্পর মেরেছিলেন বাদল। এরপর আবারও তাদের দ্বন্দ্ব দেখা দিলে করোনা পরিস্থিতির পর এ নিয়ে বসে সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছিলেন সাইফুল্লাহ বাদল। কিন্তু এর আগেই শরফীকে তারা বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে। শামীমসহ হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত সবাই ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদলের অনুসারি।
এমন হত্যাসহ অসংখ্য অভিযোগের বিষয়ে শামীম মেম্বারের মুঠোফোনে অসংখ্যবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই ।
ঘটনার বিষয়ে ফতুল্লা থানার আওয়ামীলীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল গণমাধ্যম কে বলেন, কিছুদিন আগে না, অনেকদিন আগে বিচার করেছিলাম। ওদের মধ্যে কি একটা গণ্ডগোল জানি হইছিলো। মনে নাই। তার বাবাকে চড় থাপ্পর মারি নাই। শামীম মেম্বার শতভাগ আমার লোক। সে মেম্বার আমার লোকইতো হবে। অনেক ভালো ছেলে সে। যারা হত্যার সাথে আছে শুনতাছি তারাও আমার লোক। এলাকার সবাই সবার লোক। কিন্তু কেউ হত্যা করবে এটাকে সমর্থন করবো নাকি ?
শরীফ হত্যার ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশ মাঠে নেমেছে । যে কোন ক্ষমতাশালী লোকই হোক না কেন । পুলিশ অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে বদ্ধ পরিকর বলে মন্তব্য করেছে ফতুল্লা থানার ওসি আসলাম হোসেন ।









Discussion about this post