এনএনইউ রিপোর্ট :
ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীতে আবারো শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সকাল ১১ টা থেকে শ্রমিকদের সাথে দফায় দফায় সংর্ঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে । বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবীতে শ্রমিকদের একটি অংশ এবং বহিরাগত একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিসিক এলাকার লাখো শ্রমিকদের উস্কানী দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংর্ঘর্ষের সৃস্টি করে আসছে।
আজ বৃহস্পতিবার ৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে চলমান শ্রমিক সংর্ঘর্ষের ঘটনায় একজন নারী শ্রমিক নিহত হয়েছে। নিহত নারী শ্রমিক এনআর গ্রুপের সপ্তম তলার ৮ নং লেনে হেলপার হিসেবে কর্মরত ছিলো । তার গ্রামের বাড়ী পাঁচচাটিয়া গ্রামে। নিহত বুলি বেগম ফতুল্লার শাসনগাঁও এলাকার ভাড়াটিয়া । বুলি বেগম ছাড়াও প্রায় ৩০/৪০ জন আহত হয়েছে বলে জানায় শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা।
ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর কাদের জানান, গত কয়েকদিন যাবৎ বিসিক শিল্প এলাকার পকির নিট ওয়্যার গার্মেন্টেসের শ্রমিকরা তাদের বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবীতে আন্দোলনের জের ধরে গত ৩ ডিসেম্বর সোমবার দফায় দফায় শ্রমিকদের হামলা করে। সোমবার অন্ততঃ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তাও আন্দেলন নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে কাজ করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। এরপরও শ্রমিকদের দাবী মেনে নিতে সকল পক্ষকে সাথে নিয়ে কাজ করছে প্রশাসন ।
এমতাবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কিছু শ্রমিক ও বহিরাগত স্বার্থান্বেষী একটি চক্র নতুন করে আন্দোলনের নামে ঢাকা – নারায়ণগঞ্জ- মুন্সীগঞ্জ সড়কের একাংশ বন্দ করে দিয়ে আন্দোলনের নামে হামলা ভাংচুর চালালে পরিস্থিতি আবারো ঘোলাটে হয়ে উঠে। শিল্প পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আজ বৃহস্পতিবার আবারো হামলার শিকার হয়েছে। শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ একত্রে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি ।
আহতবস্থায় নারী শ্রমিক বুলি বেগমকে নারায়ণগঞ্জ খানপুর ৩শ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে আনার পর জরুরী বিভাগের চিকিৎসক নাজনীন আক্তার মৃত ঘোষনা করেন। ডাঃ নাজনীন বুলি বেগমের মৃত্যুর কারণ হিসেবে বলেন প্রথমিক ভাবে ধারণা করা যাচ্ছে নিহতের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন নাই । হয়তো হৃদযত্রের ক্রিয়া বন্দ হয়েই বুলি বেগমের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনা সম্পর্কে শ্রমিকদের অনেকেই জানায়, আমাদের বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবীতে কয়েকদিন যাবৎ এনআর গ্রপের কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আসছিলাম । কোনভাবেই আমাদের দাবী তারা মানতে চাচ্ছে না । তাই আমরা বাধ্য হয়েই রাস্তায় নেমেছি । আজ পুলিশ মালিক পক্ষের সমর্থন করায় পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়েছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফতুল্লার বিসিক এলাকার পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। অপরদিকে পুলিশ রয়েছে কঠোর অবস্থানে।









Discussion about this post