নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন সড়ক একেক জন চাঁদাবাজ নিয়োগ দিয়ে কোটি টাকার চাঁদাবাজির ঘটনা সকলের জানা থাকলেও এবার চিহ্নিত এই চাঁদাবাজ চক্রের মূল হোতার বিরুদ্ধে ইট ভাঙ্গার শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে ।
শুধু অটো বা ব্যাটারী চালিত রিক্সাই নয় এবার ইট ভাঙ্গার শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির বিস্তর অভিযোগের তথ্য এসেছে প্রতিবেদকের হাতে। হাসান বাবু ও শহিদুল হক প্রমিত নামে দুইজন চাঁদাবাজি করতো এক শ্রমিক নেতার কঠোর নির্দেশে এমন অভিযোগ তুলে ফতুল্লা থানায় সাধারণ ডায়রাী করলেও ইট ভাঙ্গার ক্ষেত্রে চাঁদাবাজির প্রমাণ থাকার পরও কেউ মুখ খুলতে সাহস করছে না ফতুল্লার চিহ্নিত এই চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে।
এমন অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুললেই যে কোন উপায়ে চাঁদা আদায়কারীদের হত্যা করার হুমকিও রয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শ্রমিক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফতুল্লার কয়েকজন ইট ভাঙ্গার শ্রমিক জানায়, ফতুল্লার সকল সড়কের হাজার হাজার অটো ও ব্যাটারী চালিত রিক্সা থেকে প্রতিদিন ৩০ টাকা হারে, প্রতি মাসে প্রতিটি রিক্সা বা অটো থেকে ৫ শত টাকা হারে এবং প্রতি বছর লাইসেন্স রিনিউ করার নামে ৩হাজার থেকে ৫ হাজার পর্যন্ত কোটি টাকার চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে ফতুল্লার নামধারী এক নেতা। কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করলেও প্রতিদিন মায়ের হাতে সংসার খরচা হিসেবে এই নেতা ৬শ টাকা দিয়েই নিজের দায়িত্ব শেষ করেন । এই নেতা বাহিরে নিজেকে মহান দাবী করলেও মাসুদ হত্যা, কানা মাসুর পুত্র হত্যা, দারোয়ান হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি নিজেই জড়িত থেকে নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে।
ফতুল্লার মুখোষধারী এই নেতা অন্যের লিজের সম্পত্তির উপর ৫০% অংশিদার দাবী করে তান্ডব চারিয়ে চিহ্নিত চাঁদাবাজ এই শাসক দলের নেতা মাসুদ খুনের মধ্য দিয়ে শুরু করে অপকর্মের মহোৎসব । এরপর আর তাকে কেউ আর থামাতে পারে নাই। বিরামহীন ভাবে এখনো চালিয়ে যাচ্ছে সকল ধরনের অপরাধ । এমন অপরাধীর ভয়ে সংবাদকর্মীরাও অনেক ক্ষেত্রে সংবাদ প্রকাশ করতে সাহস করে না।
শাসক দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এই নেতার অপকর্মের সংবাদ প্রকাশ করলে কয়েকজন সাংবাদিককে মামলা দিয়ে মিছিল মিটিং করে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে । সবশেষ সম্প্রতি এই নেতার দুই চাঁদাবাজ ঘাম ঝড়ানো রিক্সাচালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতে অস্বীকার করলে তাদেরকে হত্যার হুকমি দেয়া হয় । এই হুমকিতে পুলিশের সহায়তা কামনা করে হাসান বাবু ও শহিদুল হক প্রমিত প্রমাণ করে কতটা ভয়ংকর ফতুল্লার চাঁদাবাজচক্রের এই গডফাদার ।
এমন ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে কয়েকজন ইট ভাঙ্গার শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নারায়ণগঞ্জে কয়েকশত ইট ভাঙ্গার মেশিন রয়েছে। প্রতিটি মেশিন থেকে ফতুল্লার এক নেতা লাইসেন্স দেয়ার নাম করে নিম্নে ২০ হাজার আর সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করে যাচ্ছে জোড়পূর্বক। মোটা অংকের এই চাঁদার বাইরেও প্রতিমাসে মেশিন প্রতি ৫০০ টাকা দিতে বাধ্য হয় নেতার নিযোজিত এক চাঁদাবজের হাতে। নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও রাজধানী ঢাকার যে কোন এলাকায় এই মেশিন চালাতে হলেই ফতুল্লার চিহ্নিত এই চাঁদাবাজকে চাঁদা দিতে হবেই।
এমন চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফতুল্লার এক ইট ভাঙ্গার শ্রমিক বলেন, এই নেতা কতটা হারামী তা অনেকেই জানেন না। কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি ছাড়াও সমএদর পাহাড় থাকলেও প্রতিদিন মায়ের হাতে এ নেতা ৬শ টাকা দিয়েই নিজের দায়িত্ব শেষ করেন, আপন ভাই মৃত্যুর আগে চিকিৎসা না করালেও ভাই মারা যাবার পর মেজবানী করেছেন লোক দেখানোর জন্য। আরেক ভাই করেন নেশার ব্যবসা ও ভুমিদস্যুতা। রিক্সা চালকদের মতোই ইট ভাঙ্গার শ্রমিকদের ঘাম ঝড়ানো টাকার উপর এমন নির্মম চাঁদাবাজি কারা করছেন তা কি নারায়ণগঞ্জের এমপি শামীম ওসমান জানেন না ? নারায়ণগঞ্জের তুখোড় এসপি হারুন অর রশিদ জানেন না ? এমপি ও এসপির কাছে অনুরোধ তারা যেন অন্ততঃ কঠোর পরিশ্রমি শ্রমিকদের ঘাম ঝড়ানো অর্থের উপর এমন নির্মম চাঁদাবাজি বন্ধ করেন।
শ্রমিকদের এমন অভিযোগের পর ফতুল্লার কয়েকজন নেতা, সাধারণ মানুষ ও নেতা নামধারী চাঁদাবাজের বিষয়ে নিকটাত্মীয় কয়েকজনের সাথে আলাপকালে জানা যায় আরো লোমহর্ষক তথ্য। নিকটাত্মীয়রা উল্লেখিত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ফতুল্লার শ্রমজীবী সকলেই অসহায় ।
( যার অডিও ভিডিও এর রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে নারায়ণগঞ্জ নিউট আপডেট কার্য্যালয়ে )









Discussion about this post