এনএনইউ রিপোর্ট :
নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি মসজিদের সামনে ইসলামী বইসহ ইসলামী নানা পন্যসামগ্রী বিক্রেতা মোস্তফা সরকার নিখোজ হওয়ার ঘটনায় প্রথমে সাধারণ ডায়রী এবং পরে মামলা দয়ের করলে আজ মঙ্গলবার সকালে আকরাম হোসেন (৪২) নামের এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ ।
আকরাম হোসেন ও নিখোঁজ থাকা মোস্তফা সরকার দীর্ঘদিন মসজিদের সামনে বসে অংশিদারী ভিত্তিতে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছিলো । এবং ব্যবসায়ী বিরোধের জের ধরে মামলা ও অসংখ্যবার শহরে শালিশী বৈঠক হলেও কোন সমাধান হয় নাই।
নিখোজ থাকা মোস্তফা সরকারের বাবা হাজী মোঃ লুৎফর রহমান জানায়, ১১ জানুয়ারী শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় শহরের দেওভোগ এলাকার ভাড়া বাড়ি থেকে খানপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় তার ছেলে মোস্তফা সরকার । এরপর থেকে আর মোস্তফা সরকারকে খুঁজে না পেয়ে এবং মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে রাত ১১টায় ৩৮৭ নং সাধারণ ডায়রী করি । ছেলেকে না পেয়ে সোমবার রাতে সদর থানায় অপহরণের মামলা দায়ের করি ।
তদন্তকারী দারোগা (পিএসআই) লুস্তম আলী জানান, পুরানো বিরোধের জের ধরে নিখোঁজ থাকা মোস্তফা সরকারের পরিবার বারবার আকরাম হোসেনকে দ্বায়ী করে আসছিলেন। পুলিশও গত তিন দিনে কয়েক দফা আকরাম হোসেনকে থানায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয় ।
এতে কোন কাজ না হওয়ায় গত সোমবার রাতে মোস্তফা সরকারের বাবা হাজী মোঃ লুৎফর রহমান বাদী হয়ে অপহরণ মামলা দায়ের করলে মঙ্গলবার সকালে আকরাম হোসেনকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ ।
শালিশী বৈঠক করা শহরের অনেকেই জানায়, আকরাম হোসেন ও মোস্তফা দুই জনই খুবই চতুর। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় রেলওয়ের সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে ইসলামী বই ও পন্যসামগ্রীর ব্যবসা করায় শহরের অনেক প্রভাবশালীদের জড়িয়ে ফেলে দুই পক্ষই ।
নিখোঁজ থাকা মোস্তফা সরকারের বাড়ী সদর থানার আলীর টেক এলাকায় । পরিবার নিয়ে তারা দেওভোগ চেয়ারম্যান বাড়ি এরাকায় ভাড়া থাকেন । অপরদিকে গ্রেফতার হওয়া আকরামে হোসেনের বাড়ী মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার মাইজ বাড়ী এলাকায় । তার বাবার নাম মৃত জমির আলী ।
অপহৃত মামলার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার তদন্ত ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন । আমাদের প্রথম কাজ হলো মোস্তফা সরকারকে উদ্ধার করা । এ লক্ষেই কাজ করছে পুলিশ ।









Discussion about this post