বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে ব্যাপকভাবে প্রবাদ আছে, “চীনের দুঃখ হোয়াংহো নদী !” আর নারায়ণগঞ্জের কাশিপুরবাসীর দুঃখ হচ্ছে “পতিতাপল্লীর সেই আইয়ুব আলী !” চীনের কষ্টের চাইতেও বেশী কষ্ট নিয়ে মুখ বন্ধ করে এই পতিতাপল্লীর দালালকে মেনে নিতে হচ্ছে ! কি করবো বুঝি না । একজন পতিতাপল্লীর সর্দারের কাছ থেকে কাশিপুরবাসীর নিতে হয় চারিত্রিক সার্টিফিকেট ! কতটা দূর্ভাগা আমরা কাশিপুরবাসী । যে পতিতাপল্লীর দালাল এমপি শামীম ওসমানের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছিলো এই আইয়ুব আলী সেই আমাদের প্রভাবশালী এমপির এলাকার জনপ্রতিনিধি। নানাভাবে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালিয়ে ই যাচ্ছেন তিনি ! চালাচ্ছে নানা অপরাধ। কি করবো আমরা বুঝি না।’
এভাবেই নিজেদের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন ফতুল্লার প্রবীণ কয়েকজন ব্যক্তি
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আইয়ুব আলী। আগে আওয়ামী লীগের সাথে তার কোনো লেশপেশ না থাকলেও বর্তমানে তিনি নিজেকে কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সভাপতি জীবিত ও সক্রিয় থাকাবস্থায়ই আইয়ুব আলী গায়ের জোরে নিজেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে বেড়ান। যেন ‘গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল’।
বাংলা এই প্রবাদটির বাস্তব প্রয়োগ রয়েছে আইয়ুব আলীর মধ্যে। এলাকার কোনো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সমর্থক তাকে মেনে না নিলেও তিনি নিজেই স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। কে মানলো আর কে মানল সেদিকে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। নিয়ম বহির্ভূতভাবেই তিনি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। একই সাথে অনেক নেতাদের নানাভাবে তুষ্ট করে কখনো কখনো কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন এবং এলাকাবাসীর নানা সনদের পাশাপাশি চারিত্রিক সার্টিফিকেটও দেন পতিতাপল্লীর নানা অপকর্মের হোতা আইয়ুব আলী । আর টানবাজার পতিতাপল্লীর এমন একজন ঘৃন্য মানুষের হাত থেকে চারিত্রিক সার্টিফিকেট প্রদানের ঘটনায় দীর্ঘদিন যাবৎ ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে এলাকাবাসী
সাম্প্রতিক সময়ে আইয়ুব আলীর দম্ভে ফেঁসে গেছেন একজন অসহায় মানুষ। সেই সাথে তার কারণে বিব্রত নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। এমন কী অসহায় ওই মানুষটির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতেও ছড়েননি তিনি। ৩৩৩ নাম্বারে ফোন করা ‘৪ তলা বাড়ি মালিকের` জীবনে এই ঘোর অন্ধকার নামার নেপথ্যে রয়েছেন স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য ও কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পরিচয় দেয়া আইয়ুব আলী। ৩৩৩ নাম্বারে ফোন করে সাহায্য চাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন থেকে তদন্তে আসা ব্যক্তিদের তিনিই প্রথম জানিয়ে ছিলেন- ফরিদ উদ্দিন ওই ৪ তলা বাড়ির মালিক এবং একজন ব্যবসায়ী।
পরবর্তীতে ‘লঘু পাপ’ না করেও গুরু দন্ডে দন্ডিত ফরিদ উদ্দিনকে নিয়ে এখন বেশ ‘অস্বস্তিকর’ পরিবেশে পতিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন। আর এসকল কান্ডের মূল নেপথ্যে নায়ক হিসেবে কাজ করেছেন আইয়ুব আলী।
জানা যায়, ২০০৩ সালে কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলন হয়। তৎকালীন ছাত্র নেতা হাবিবের বাড়িতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপত্বি করেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাসির মাহমুদ। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের তৎকালীন আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য এসএম আকরাম। সেই সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোটে ৬৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এতে সভাপতি করা হয়েছিল দুলাল আর সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল গোলাম মোস্তফাকে।
কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সেই কমিটিতে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পরিচয় দেয়া আইয়ুব আলীর কোনো নাম ছিল। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো সভাপতি মারা গেলে কিংবা নিস্ক্রীয় অথবা সংগঠন বিরোধী কাজ করলে সেই সভাপতি বহিস্কার করে তার স্থলে নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে অন্যজনকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা যায়। কিন্তু এসকল নিয়মনীতির কোনোটাই হয়নি আইয়ুব আলীর ক্ষেত্রে।
গত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন বাগিয়ে আনার জন্য আইয়ুব আলীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। আর এরপর থেকেই তিনি গায়ের জোরে কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পরিচয় দিয়ে আসছেন।
এ বিষয়ে কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নির্বাচিত সভাপতি দুলাল মিয়া বলেন, জানি না তিনি কিভাবে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হয়েছেন। আমি আওয়ামী লীগে সক্রিয় রয়েছি সারাজীবন আওয়ামী লীগ করে যাবো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও আইয়ুব আলীর কারণে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা লাঞ্ছিত বঞ্ছিত অবস্থায় রয়েছেন। তারা ভয়ে কারও কাছে কিছু বলতে পারেন না। কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নিয়ে কত কিছু হলো। কিন্তু ফলাফল আইয়ুব আলী জোর করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি।
আইয়ুব আলীর পরিচয় সম্পর্কে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ২’শ বছরের কলংক পতীতা পল্লীর এক সময়ের সর্দার ছিলেন আইয়ুব আলী। সেই সময় তিনি পতিতা পল্লী থেকে মোটা অংকের টাকা পেয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যান। এরপর ১৯৯৬সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসে। তখনকার সময় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান সেই সরকারের শেষ সময়ে পতীতা পল্লী উচ্ছেদের উদ্যোগ নেন। এমপি শামীম ওসমানের ঐ উদ্যোগকে সুশীল সমাজ সাধুবাদ জানালেও পতীতা পল্লীর সর্দাররা বিরোধীতা করছিল।
তারা এমপির বিরুদ্ধে নানা রকম স্লোগানে স্লোগানে শহরকে উত্তপ্ত করে তুলেছিল। এমপি শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে পতিতা পল্লীর সর্দার আইয়ুব আলী ছিল মূখ্য ভূমিকায়। পতীতা পল্লীর সামনে এমপি শামীম ওসমানের কুশপুত্তলিকাদাহও করেছিলেন দালালরা। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের বলিষ্ট নেতৃত্বে তৎকালীন সরকারের শেষ সময়ে নারায়ণগঞ্জকে কলংক মুক্ত করা হয়।
টানবাজার পতিতাপল্লীর সর্দার ও দালাল আইয়ুব আলী এখন বিনা ভোটে কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ৷ পতিতা পল্লী উচ্ছেদ কালীন সময়ে হাজারো পতিতা-দের সমিতির পুরো টাকা এবং স্বর্ণালংকার আত্মসাৎকারী আইয়ুব আলী এখন কাশিপুর এলাকায় চালাচ্ছেন নানা অপকর্ম ।
চেয়ারম্যানের অনুপুস্থিতে কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়ে এলাকাবাসীর চারিত্রিক সার্টিফিকেট দেয় পতিতাপল্লীর দালাল আইয়ুব আলী । যা এলাকার মানুষের জন্য চরম অপমানজনক বলেও মন্তব্য অনেকের ।
টিপ্পনী কেটে ‘আমরা কত সৌভাগ্যবান !’ বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ। উপস্থিত কেউ কেউ আরো বলেন, এমন পতিতাপল্লীর দালালের কাছ থেকে এর চাইতে ভালো কিছু আশা করা যায় কি করে ?
পরবর্তীতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে এলাকার গণমান্য ব্যক্তিদের কেউ কেউ নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে বলেন, টানবাজার পতিতাপল্লীর অনেক কেলেংকারীর অভিযোগ রয়েছে আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে । পতিতাদের সমিতির বিশাল অর্থ টানবাজার সোনালী ব্যাংক শাখার রক্ষিত বিশাল অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করে কোটিপতি বনে যায় আইয়ুব আলী। সেই আইয়ুব আলী এখন দেওভোগ এলাকার নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকেই ফরিদ উদ্দিনের সঠিক বিচার দাবী করেছেন । যার রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট এর দপ্তরে ।
এমন অসংখ্য অপকর্ম ছাড়াও বন্ধন পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি করে বন্ধন পরিবহনে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হয়ে যান। কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ড সদস্যও হয়ে যান। সেই সাথে জোর করে কোনো নিয়ননীতি না মেনেই কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতিও বনে গেছেন আইয়ুব আলী।
এদিকে বন্ধন পরিবারের চেয়ারম্যান থাকা সময়েও আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে উঠে নানা অভিযোগ। ওই সময়ে জানানো হয়, প্রতিদিন কাউন্টার থেকে আয় হয় ৪৬ হাজার টাকা। অফিস বাবদ খরচ হয় সাড়ে ১১ হাজার টাকা। ম্যানেজমেন্ট ব্যয় হয় ৪১ হাজার টাকা, এনাদার ব্যায় দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। সব কিছু শেষে গাড়ির মালিক পায় ট্রিপ প্রতি ৭৭০ টাকা। দিনে ১০ ট্রিপ দিতে পারলে সেই গাড়ির মালিক পায় ৭ হাজার ৭ শত টাকা। এই হিসেবে বাস মালিকদের থেকে কয়েক গুণ বেশি আয় করে অদৃশ্যরা। এই বন্ধন পরিবহনে রয়েছে ৫০টি বাস যার মালিক ৪২জন। ২০০৫ সালে শুরু হয় বন্ধন নাম দিয়ে ২০১৩ সালে অক্টোবর পর্যন্ত এর নিয়ন্ত্রণ কর্তা ছিলেন কয়েকজন। অবৈধ নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজী এবং লুটপাটের অভিযোগ তুলে বিলুপ্ত করা হয় বন্ধন। নতুন নামে আসে নিউ বন্ধন রূপে। তার আগে ৯৬ সালে বিএনপির ক্ষমতার সময় এই বন্ধন ছিল ডেভিডের ভাই তপনের নিয়ন্ত্রণে। বর্তমানে সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ জন হিসেবে এর নিয়ন্ত্রক হিসেবে রয়েছেন আইউব আলী। এমন অভিযোগ করেন আকরাম প্রধান নামের একজন বাস মালিক।
নানা অভিযোগে তিনি বলেন, আইউব আলী সংসদ সদস্যের এবং কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাছের মানুষ পরিচয় দিয়ে থাকেন।
এমন অসংখ্য অভিযোগের বিষয়ে আইয়ুব আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বক্তব্য চাইলে নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট কে বলেন, মানুষের মুখ তো আর বন্ধ করা যাবে না ।









Discussion about this post