নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট :
প্রয়াত সংসদ সদস্য ও বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও একমাত্র পুত্রকে নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান । সেলিম ওসমান বলেছেন, অন্যায় করলে ইচ্ছা করলে বিচার ছাড়াও এর প্রতিকার করা যায়। আমার ভাতিজারে দেখছেন না। হাজী সাহেব। হাজী সাহেবের কথা কে না জানে। আরে আমার ভাবীর বাড়ি নোয়াখালী। নোয়াখালী উনার বাড়ি, উনি নারায়ণগঞ্জে এমপি হতে চায় ! উনি ওসমান পরিবারের কেউ না । উনাকে জাতীয় পার্টির কিছু মানুষ উস্কানী তাকে দেয়। মাসে মাসে উনাকে দেখি উনি ডোনেশন দেন।
দুদিন আগে দেখলাম উনি বন্দরে একটা শহীদ মিনার করার জন্য ৫লাখ টাকা ডোনেশন দেয়। ইনকাম টেক্সের ফাইলটা খুঁজে দেখেন। আমি আমার পরিবার সম্পর্কে বলছি। ইনকাম টেক্সের ফাইল খুঁজে দেখেন ওই টাকাটা উনি আয় দেখিয়েছেন কিনা! কাউরে ছাড়বোনা। কারণ আপনারা আমাকে দায়িত্ব দিছেন। স্বঘোষিত নেতা হতে দেবনা। জনগণের রায় নিয়ে নেতা হবেন। হস্তান্তর করে দিবো। মোড়ে মোড়ে পোস্টার লাগিয়ে নেতা হবেননা। নেতা হওয়ার চেষ্টা করবেনা। আমি আমার পরিবারকেই সাবধান করলাম।
সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ১৮নং ওয়ার্ডের নলুয়াপাড়া এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সেলিম ওসমান তাঁদের আয়ের উৎস নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, আপনার আয়টা যদি ঠিক হয়, তাহলে আপনার চাহাতটা কম হবে। আপনি লুট করে নিয়ে এসে ওই লুটের টাকায় যাকাত হয়না। আপনি চুরি করে নিয়ে এসে আপনার মায়ের পায়ের কাছে টাকা ঢেলে দিবেন, মা আপনাকে দোয়া করে দেবে। ওটা ফালতু, ওই দোয়া হবেনা। আপনি চুরি করে নিয়ে এসে আপনার টাকা ছেলেকে দেবেন, হবেনা। বিচারটা কিন্তু আপনারই হবে।
খালি নামাজ কালাম করলেই হবেনা। নিয়ম কানুনও জানতে হবে। আমার যদি উপার্জনই না থাকে আমি ডোনেশন করি কোত্থেকে? ভবিষ্যতে নির্বাচন করার জন্য? আমি জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলবো। আমি ইনকাম ডিপার্টমেন্টের সাথে কথা বলবো। কে, কবে, কত টাকা খরচ করেন এটার হিসাব কি শুধু আমরা ব্যবসায়ীরাই দিবো নাকি? হ্যাঁ। আর বাতাসে টাকা আসে? কার টাকা? এটা তো আরেকজনের টাকা। সেই লোকটা তো টাকাটা দিতে পারেনা। আমি টাকাটা দেই আমার ভবিষ্যত নির্বাচনের রাস্তা খোলার জন্য। আমি কাউকে ছাড় দিবোনা। আল্লাহ আমাকে হায়াত দিলে, আগেও বলেছি এখনও বলছি। হারাম খাবোনা আর হারাম খেতেও দিবোনা। হায়াত দিলে সৎপথে উপার্জন করে তিনভাগের একভাগ আমি খাবো, একভাগ পরিবারকে দেবো, আরেকভাগ দিয়ে ফূর্তি করবো। এই ফর্মূলাতেই থাকেন।
সেলিম ওসমান বলেন, আমি ভয় পাই না, কারো কাছে হাত পাতি না, আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করিনা। আমি এখন আর বলবোনা যে আগামীতে নির্বাচন করবোনা। আল্লাহ আমাকে হায়াত দিলে আমি আমার এলাকার মানুষের জন্য গোলামী করবো। গোলামী করার জন্য যদি ক্ষমতার প্রয়োজন হয় তাহলে ক্ষমতা নিবো আর না হয় জনগণের ভালোবাসা নিবো। ক্ষমতার চেয়ারে বসতে হবে এমন কোন কথা নেই।
১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিল কবির হোসাইন ও সাবেক কাউন্সিলর কামরুল ইসলাম মুন্নার মধ্যেকার সংঘর্ষের বিষয়টি তুলে ধরে সেলিম ওসমান বলেন, কামরুল ইসলাম মুন্না আপনি মসজিদের হিসাব হস্তান্তর করবেন। তবে কোন কমিটির কাছেনা। কমিটি হবে কি হবেনা এটি আমি এলকার মানুষের সাথে আলোচনা করে করবো। আল্লাহ আপনার কপালে রাখলে হতে পারে আপনি সভাপতি হবেন। হিসাব দেবেন যদি এলাকার মানুষ সন্তুষ্ট হয়, এলকার মানুষ বুঝবে কেন? হিসেব দেখে কমিশনার সাহেব বলতে পারেন এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি ছিলো, মুন্নাই সভাপতি থাকুক।
দরকার পড়লে রোজকার হিসেবে রোজ দেয়া হবে। দরকার হলে একজন একাউন্টান্স রাখা হবে। দুজনের পক্ষ থেকেই আমি ক্ষমা চাইলাম। ৮ মার্চের পর এদের দুজনকে নিয়ে বসবো। আনায় আনায়, কানায়-কানায় হিসেব দিতে হবে, এটি সেলিম ওসমানের টাকা না। প্রয়োজন হলে আমি টাকা দিবো, আমার ব্যাবসায়ী ভাইয়েরা টাকা দিবে। আমি কারো বিচার করতে আসিনি। আমি আপনাদের শিখাতে এসেছি। দরকার হলে আমি নিজে হিসেব বুঝিয়ে দেবো। যারা মারামারি করছেন আসেন আবার মারামারি করতে। এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয় এমন কোন কিছু বরদাস্ত করবো না।









Discussion about this post