নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট :
নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোতালেব হোসেন বলেছিলেন, হাসপাতাল থেকে অবসর নেয়ার পরও ডা. মান্নানের চিকিৎসা দেয়া সম্পর্কে তিনি অবগত নয় তিনি । যদি এখনও থেকে থাকেন তাহলে আগামীকালই (বৃহস্পতিবার) নোটিশ করবেন। এভাবে চিকিৎসা দেয়ার কোন সুযোগ নেই। অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এমন বক্তব্য গত বুধবার ৬ ফেব্রুয়ারী রাতে গণমাধ্যমে দেয়ার পর একদিনের ব্যবধানে আজ শুক্রবার ৮ ফেব্রুয়ারী দুপুর থেকে দেখা গেছে ৩০০ শয়্যা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করছেন অবসরে থাকা আবদুল মান্নান। যিনি গত দুই বছর আগেই চাকুরী থেকে অবসরে চলে গেছেন । জরুরী বিভাগে একের পর এক রোগী দেখছেন আর প্রতিটি ব্যবস্থাপত্রে মেরোপিনায়ম ইনজেকশনসহ কমিশন পাওয়ার লোভে অনেক স্যালাইন ও ওষুধ লিখে দিচ্ছেন ।
এমন চিকিৎসার ঘটনায় অনেকে প্রকাশ্যেই ডাঃ আবদুল মান্নানকে প্রশ্ন করেছে কিভাবে এখানে চিকিৎসা দিচ্ছেন তিনি ? আবার অনেকেই এমন চিকিৎসা গ্রহণ না করে ফিরে গেছেন অন্যত্র। যা দেখে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন ৩শ শয্যা হাসপাতাল তো এখন অদৃশ্য ভূতে চালায় !
অসংখ্য অভিযোগ থেকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকার ৩শ শয্যা হাসপাতাল দীর্ঘদিন যাবৎ ক্লিনিক, ডায়াগণষ্টিক সেন্টারের বাণিজ্য ছাড়াও ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগে শহরবাসীর সমালোচনা কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে । চিকিৎসা সেবা নিতে এসে কি পরিমান হয়রাণী ও বাণিজ্যের শিকার হতে হচ্ছে তা নিয়ে সকলের মুখেই রয়েছে তীর্যক মন্তব্য । এমতাবস্থায় গেলো প্রায় দুই বছর যাবৎ অবসরে থাকা চিকিৎসক আবদুল মান্নানের অনৈতিক কর্মকান্ডে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে শহরের হাজারো রোগী ও তাদের স্বজনরা ।
গত ৫ ফেব্রুয়ারী থেকে টানা ৭২ ঘন্টা অবসরে থাকা এই বৃদ্ধ চিকিৎসক (যিনি চোখেও দেখন না ঠিক মতো) আবদুল মান্নান শুধুমাত্র কমিশন বানিজ্যের লোভে অন্যান্য চিকিৎসকদের বিপরীতে নিজেই জরুরী বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।
কি কারণে এমন বিনামূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছেন ডাঃ আবদুল মান্নান এমন প্রশ্নে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ডাঃ মান্নান নিজেই বারবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছে হাসপাতালে চিকিৎসক শংকটের কারণে তাকে দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে । অথচ খোজ নিয়ে জানা যায় জরুরী বিভাগে কোন চিকিৎসকের শংকট নাই । নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে ডাঃ নাজমুল হোসন, ডাঃ ইমন, ডাঃ নূরুজজামান ও ডাঃসাবিনা ইয়াসমিনের মতোই চারজন চিকিৎসক নিয়মমাফিক (রোষ্টার অনুয়ায়ী ) ডাঃ নাজনীন, ডাঃ শাহাদাত, ডাঃ অমিত ও ডাঃ সারোয়ার কাজ করে যাচ্ছেন । এই চারজন চিকিৎসক কাজ করার পর কার স্বার্থ হাসিল করতে অবসরপ্রাপ্ত ডাঃ মান্নান কাজ করে যাচ্ছে অবৈধভাবে । ডাঃ মান্নান এমন অনৈতিক কর্মকান্ড করলেও তা কিনা জানেন ই না বলে দাবী করেছেন ৩শ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোতালেব হোসেন ।
দীর্ঘদিন যাবৎ এমন অনিয়মের খোজে অনুসন্ধান করলে বেড়িয়ে আসে আরেক দূর্ণীতির চিত্র । কয়েকটি ওষুধ কোম্পানীর সাথে ৩শ শয্যা হাসপাতালের অসাধু চক্রের সাথে গোপন চুক্তি মোতাবেক আবদুল মান্নানকে নিয়মিত জরুরী বিভাগে অনৈতিকভাবে কাজ করার জন্য জোড় চাপ দেয় । এই প্রভাবশালী চক্রটি হাসপাতাল চালু হওয়ার শুরু থেকেই নানাভবে ঠিকাদারীর ব্যানারে সরকারের কোটি কোটি টাকা বছরের পর বছর জুড়ে লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে । এই চক্রটি এতই প্রভাবশালী তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে মামলা, হামলা করে শহর ছাড়ার হুমকি দিয়ে নিজেদের অস্তিত্ত্ব টিকিয়ে যাচ্ছে যুগ যুগ ধরে । আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনমলে স্থানীয় এমপির পদলেহন আবার বিগত বিএনপি সরকারের শাসনামলে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের পদলেহন করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে প্রভাবশালী চক্রটি ।
প্রভাবশালী এই চক্রটির হুমকি ধমকি ও মামলা, হয়রানীর ভয়ে অনেক সংবাদকর্মীরাও বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে ভয় পায় । কারণ বিগত সময়ে এমন চরম দূর্ণীতির সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্যদের পদলেহনকারীরা কয়েকটি সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা করে হয়রানী করার ঘটনা এখনো অনেকের মুখে উচ্চারিত হচ্ছে ।
এমন লুটপাট ও অপরাধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কেউ কোন প্রতিবাদ না করায় অবসরে থাকা চিকিৎসক মান্নানকে দিয়ে যেমন ওষুধ বাণিজ্য করা যাচ্ছে তেমনি এই চক্রের হোতাদের মালিকানাধীন শহরের কয়েকটি ডায়াগণষ্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে রোগি পাঠিয়ে কমিশন বাণিজ্য চালাতে সহজ হচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই ।
কারণ হিসেবে অনেকেই বলেন, একেকটি প্রেসক্রিবশনে যদি ৩/৪ টি পরীক্ষা নীরিক্ষা করানো যায় সেক্ষেত্রে রোগী প্রতি নিম্নে দেড়/ দুই হাজার টাকা আসে। আর চিকিৎসকের কমিশন আসে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ । অপরদিকে ব্যবস্থাপত্রে মেরোপিনায়ম ইনজেকশনসহ এমন তিনটি ওষুধ লিখলেই প্রতিদিন কয়েকশত রোগীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ টাকা । আর এই লাখ টাকার একটি অংশ কাজ শেষে অসাধু চক্রের হাতেও তুলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন যাবৎ।
অবসরে থাকা চিকিৎসক আবদুল মান্নানের এমন অনৈতিকভাবে দায়িত্ব পালন এবং তার করণীয় বিষয়ে জানাতে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোতালেব হোসেরে মুঠোফোনে শুক্রবার ৮ ফেব্রুয়ারী রাত ৭টা ৩০ মিনিটের সময় যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এমন কাজের জন্য দায়ী হাসপাতালের আরপি ডাক্তার সামছুজ্জোহা সঞ্জয় । তার সাথে যোগাযোগ করেন ।
এ বিষয়ে ৩শ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরপি) সামছুজ্জোহা সঞ্জয় নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেটকে বলেন, আমি এই বিষয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো । আমি এই দায়িত্ব এড়াতে পারি না ।









Discussion about this post