নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজলকে কুখ্যাত রাজাকার পুত্র উল্লেখ করে কটোর ভাষায় সমালোচনা করে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী। খালেদ হায়দার খান কাজল কে মেরে, জুতার মালা পরিয়ে সেলিম ওসমান বের করে দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন ডাক্তার আইভী।
শনিবার (২ অক্টোবর) বিকেলের দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১ নং ওয়ার্ডে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ওইসব কথা বলেন। এখানে এদিন তিনি ৫০ নং বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিটি কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং মুক্তিযোদ্ধা সড়ক উদ্বোধন করেন।
সাংসদ সেলিম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে আইভী বলেন, আপনি আপনার কর্মচারি কাজলকে মেরে গলায় জুতার মালা পরিয়ে আপনি বের করে দিয়েছেন। আবার কী কারণে যেন তাকে মাথায় তুলেছেন। ওই রাজাকারের ছেলেকে নিয়ে সমস্ত কিছু লুটপাট করে খাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আপনি অন্য দল করেন। আওয়ামী লীগ নিয়ে আপনার এত মাথা ব্যথা কেন। আপনি এত বাড়াবাড়ি করেন কেন ? আপনি কেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে কথা বলেন। আপনিতো অন্যদল করেন। আপনিতো দলছুট মানুষ। আপনিতো আওয়ামী লীগের কেউ না। বড় বড় কথা বলবেন না। যারা দল করি। এই দলকে যারা লালন পালন করে। এই দলের জন্য যারা জানপ্রাণ দিতে চায়। যারা মানুষের সাথে মিশে, মানুষের কথা বলে, জনগণের কথা বলে, নারায়ণগঞ্জবাসীর কথা বলে, আমি তাদের পাশে আছি, সবসময় থাকবো। আপনার ধমক বন্ধ করতে পারবে না। বহু চেষ্টা করেছেন। এখন আপনাদের ধোলায় নেওয়ার পালা এসেছে।
এপাড়ের মানুষকে তারা জুজুর ভয় দেখায়। নদীর এই পাড়ে আসলেই তাদের কলিজা বড় হয়ে যায়। কিন্তু নদীর ওইপাড়েতো ভয়ে কথা বলতে পারেন না। তারা মনে করেন, এই পাড়ের মানুষ নদী পাড় হয়ে যায়। শহর যাবে। কখন কাকে গুলি করবে। কারে আটকাবে। কার উপর অত্যাচার করবে। আগে কিন্তু তাই হয়েছে। আমি কথা বলতে বলতে এগুলি বন্ধ হয়েছে। আজকে সাধারণ একজন মানুষেরও ধারণা, আইভী গর্জন করে উঠবে। যা মিডিয়ার সামনে চলে আসবে। শ্যামল কান্তি স্যারকে যেভাবে চড় মেরেছিলেন, এগুলি বন্ধ করেন। ধমকানো বন্ধ করেন।

মেয়র আরো বলেন, অনেকেই ধমকের সুরে আমাকে বলে কথা বন্ধ রাখতে। যারা এসব কথা বলেন তারা তো ঢাকায় বসবাস করেন। দিনের বেলায় নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা-বাণিজ্য আর চাঁদাবাজি করে রাতে ঢাকায় গিয়ে থাকেন। আমি তো ঢাকায় বসবাস করি না। আমার চৌদ্দ পুরুষ নারায়ণগঞ্জে থাকেন। আমাকে ধমক দিয়ে কাজ হবে না। কারণ আপনাদের পিস্তলই তো ভয় পাইনি।
সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকারের সভাপতিত্বে এ সময় প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভা হাসান, নাসিকের ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহমেদ ভূঁইয়া, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শিউলি নওশাদ, নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট এবি সিদ্দিক, মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন, বন্দর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার আব্দুল লতিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।









Discussion about this post