নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ইদানিং দেখা যাচ্ছে অনেক রাজাকারকেও মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট দিয়ে দিচ্ছেন। এই সার্টিফিকেট দেওয়ার অধিকার কে দিলো তা আমরা জানি না। মুক্তিযোদ্ধারা কিন্তু জানেন তারা কার সাথে যুদ্ধ করেছেন আর তাদের সহকর্মী কে ছিলেন। তাদের সাথে যুদ্ধে কে গিয়ে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা এটা খুব ভালই বলতে পারবেন। কিন্তু ইদানিং দেখেছেন অত্যন্ত দু:খের বিষয় রাইফেল ক্লাবের অস্ত্র লুট করেছেন কুখ্যাত রাজাকার যাকে আমরা কুখ্যাত রাজাকার হিসেবেই জানি সেই গোলাম রাব্বানিকে আজকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর যে চক্রান্ত চলছে এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। রাজাকারের সন্তানকে বিভিন্ন সেক্টরে পদ-পদবী দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হচ্ছে।’
রোববার (৭ মার্চ) বিকেলে নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাইকপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা সড়কের নামফলক উদ্বোধনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। পাইকপাড়া পুল থেকে বাবুরাইল পুল পর্যন্ত সড়কটিকে মুক্তিযোদ্ধা সড়ক হিসেবে নামকরণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, রাইফেলস্ ক্লাবের অস্ত্র লুটে নাকি সহযোগিতা করেছেন কুখ্যাত রাজাকার গোলাম রাব্বানী খান (চেম্বারের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজলের পিতা)। যাকে আমরা কুখ্যাত রাজাকার হিসেবে জানি সেই গোলাম রাব্বানী খানকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর চক্রান্ত চলছে। এই চক্রান্ত জাতির জন্য, নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য লজ্জাজনক।’
সিটি মেয়র বলেন, ‘আমি মনে করি, এই ধরনের কথাবার্তা বলা তাদের দুরভিসন্ধি। সকল মুক্তিযোদ্ধাদের এর বিরুদ্ধে কথা বলা উচিত, প্রতিহত করা উচিত। আপনারা জীবন দিয়ে যুদ্ধ করেছেন, এই দেশের জন্য অবদান রেখেছেন। সুতরাং সত্য করা আপনাদের বলতে হবে। সত্য বলাটা আপনাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।’
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজলের পিতা গোলাম রাব্বানী খান। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে লেখা ইতিহাসের গবেষক ও লেখক মুনতাসির মামুন ও রীতা ভৌমিকের বইতে গোলাম রাব্বানী খানের নাম রয়েছে স্বাধীনতা বিরোধী শান্তি কমিটির তালিকায়। ১৯৭১ সালের ১২ মে নারায়ণগঞ্জে স্বাধীনতাবিরোধীরা ১২৪ সদস্যবিশিষ্ট শান্তি কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির চাষাঢ়া অঞ্চলের আহ্বায়ক ছিলেন গোলাম রাব্বানী খান। তবে গত ৫ মার্চ সকালে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান বলেন, ১৯৭১ সালে চাষাঢ়ায় রাইফেলস্ ক্লাবে রাখা অস্ত্র লুটের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের ক্লাবের তালা খুলে দিয়েছিলেন গোলাম রাব্বানী খান।
এদিকে নারায়ণগঞ্জে মিথ্যার প্রচারণা চলছে মন্তব্য করে পাইকপাড়ায় আইভী বলেন, ‘সত্যকে মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্য বলে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। মসজিদ, মন্দিরের জায়গা দখল করা হচ্ছে বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জবাসী সচেতন হোন। যারা সারাজীবন মিথ্যা কথা বলে এসেছে, যারা আজীবন হত্যার রাজনীতি করেছে তারা সত্য করা বলতে পারে না। তারা জনশক্তিকে ভয়।’
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার স্বপক্ষে রাজনীতি করছি, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উন্নয়নের রাজনীতি করছি। এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে উন্নয়ন করছি না। এই উন্নয়নকে প্রতিহত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, মামলা-মোকদ্দমা করা হচ্ছে। আমি চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পাশে থেকে সোনার বাংলা গড়ার কাজ করতে। এটা যেন করতে পারি সেজন্য সকলের কাছে দোয়া চাই।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র-১ আফসানা আফরোজ বিভা হাসান, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী নূর উদ্দিন আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আসগর হোসেন প্রমুখ। এছাড়া ওই এলাকার অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারাও উপস্থিত ছিলেন।









Discussion about this post