প্রতিদিনের মতো সকাল সাতটা থেকেই শহরের বোস কেবিনে নাস্তার জন্য ছুটে আসেন অনেকেই । নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত অসংখ্য পত্রিকা হাতে পেয়ে সকালের চোখ ছিলো সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভীর “ষ্টুপিড” শব্দটিকে কেন্দ্র করে । কাকে ষ্টুপিড বলেছেন আইভী ? এ নিয়ে এ রিপোর্ট লেখাকালীন সময় সকাল সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা । অনেকেই পাল্টা প্রশ্ন করেছেন তীর্য়কভাবে । সমালোচনার একবাক্যেই অনেকেই বলেছেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকেই ষ্টুপিড বলেছেন মেয়র আইভী
নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট :
৩০ মার্চ শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় শহরের নিজ এলাকার দুই নং বাবুরাইল এলাকায় জনকল্যাণ সংসদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় বক্তব্যকালে নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভী কঠোর হুসিয়ারী উচ্চারণ করে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর কাদেরের বিরুদ্ধে । তার বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলেও জানিয়েছেন মেয়র আইভী।
আব্দুর রাশেদ রাশু, নাসিকের সাবেক কাউন্সিলর হাজী ওবায়েদুল্লাহ, জনকল্যাণ সংসদের সাধারণ সম্পাদক খাবির আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমাস আলীসহ অনেকের বক্তব্যের পর মেয়র আইভী বলেন, জামায়াতের এক আমিরকে নিয়ে এই শহরের নির্দেশদাতা, শহরের সবচেয়ে সবচেয়ে বড় ষ্টুপিড লোক যিনি শহরে অরাজকতা তৈরী করার চেষ্টা করেন, সেই ভদ্র লোকের নির্দেশে যদি একজন ওসি বলেন, ”আলী আহম্মদ চুনকার জামাতের সাথে সংশ্লিষ্টতা ছিল।”
আইভীর এমন বক্তব্যের ঘটনা পত্রিকায় প্রকাশের পর রোবরাব ৩১ মার্চ সকালে বোস কেবিনের নাস্তার টেবিলে ষ্টুপিড শব্দকে কেন্দ্র করে সমালোচনায় অনেকেই বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ফতুল্লা থানায় আটক নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াত ইসলামীর আমীর মাওলানা মঈনুদ্দিন আহামাদকে পুলিশ হেফাজাতে জিজ্ঞাসাবাদের একটি অডিও রেকর্ড প্রকাশ পায় সর্বত্র । পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে মাওলানা আহামাদকে বলতে শোনা যায়, প্রয়াত চুনকা চেয়ারম্যান (মেয়র আইভীর বাবা) জামায়াত কে পৃষ্টপোষকতা করতো । একই সাথে মেয়র আইভীর সাথে বিএনপি এবং জামায়াত ইসলামীর সখ্যতা ছিলো/আছে । এমন অডিও রেকর্ড নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করেছেন ফতুল্লা থানার ওসি মঞ্জুর কাদের । রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে সুবিধা নিতেই এমন রেকর্ড ওসি মঞ্জুর কাদের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের কাছে হস্তান্তর করে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করেছেন।
বোস কেবিনের নাস্তার টেবিলের আড্ডায় নারায়ণগঞ্জের অনেক প্রবীনরা সমালোচনা করে আরো বলেন, মেয়র আইভীর সাথে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের দ্বন্ধের খবর কে না জানে ? নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও সারাদেশের মানুষ এই অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক দ্বন্ধের খবর সকলের ই জানা । এই দ্বন্ধকে পুঁজি করে ফতুল্লা থানার ওসি মঞ্জুর কাদের একজন জামায়াত নেতার অডিও টেপ হস্তান্তর করে । বেশ কয়েকদিন যাবৎ আইভীকে ঘায়েল করতে এই টেপ ব্যবহার করা হচ্ছে । যার কারণে আইভী নাম উচ্চারণ না করলেও সকলেই বুঝেছে শামীম ওসমানকেই ষ্টুপিড বলেছে আইভী ।
নাস্তার টেবিলে অনেকেই পাল্টা সমালেচনা করে বলেছেন, আইভী তার বক্তব্যে নাম না বললেও সকলেই বুঝেছেন ষ্টুপিড কাকে বলেছেন । কিন্তু মেয়র আইভী যাদেরকে পাশে বসিয়ে শামীম ওসমানের সমালোচনা করেছেন তারা কারা ? এই শহরের অনেকেই জানেন আইভীর পাশে যারা বসে আছেন তারা লুটেরা । আদালতে তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা আছে । সরকারী সম্পদ লুণ্টনকারীদের সাথে নিয়ে অন্যের সমালেচনা করার আগে আইভীর উচিৎ ছিলো তার পাশে কারা বসে আছে তা দেখা । এরা দিনের আলোয় আইভীর পদলেহন করে আবার রাতের আধারে শামীম পন্থীদের পা ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করে। আইভীর পাশে বসে যারা লম্বা লম্ব কথা বলেছেন তাদের চরিত্র নিয়েও নাস্তার টেবিলে অনেকেই সমালোচনা করেছেন ।
এ সময় আনিস নামের এক বৃদ্ধ বলেন, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে কে কাকে ঘায়েল করবেন সেই চিন্তায় ব্যস্ত শামীম ও আইভী । শামীম ওসমানের পক্ষে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল প্রায়ই আইভীকে নানাভাবে কটাক্ষ করতে যেমন চিন্তা করে না, ঠিক তেমনি কিছু বিতর্কিত লোক আইভীর পাশে স্বার্থ আদায়ের জন্য নানাভবে ঘুরঘুর করতে দেখা যায় । এরা কারা এবং কি উদ্দেশ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে উস্কানী দেয় তা শহরের সকলেই খুব ভালো করে জানেন/বুঝেন বলেও আনিসের সাথে সূর মিলিয়ে মন্তব্য করেন ।









Discussion about this post