এবার রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকায় বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে যুব অধিকার পরিষদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে। এসময় পুলিশ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া রফিকুল ইসলাম ওরফে শিশু বক্তাকে আটক করেছে।
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার জেরে শাপলা চত্বর হয়ে দৈনিক বাংলা-গুলিস্তান সড়কটি বন্ধ রয়েছে। ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে বিকল্প রাস্তা হিসেবে শাপলা চত্বর থেকে ফকিরাপুল হয়ে গাড়ি চলাচল করছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন ডাস চত্বরে নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের বিক্ষোভ ও কুশপুতুল পোড়ানোর কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সাংবাদিক এবং ছাত্রজোটের নেতাকর্মীসহ ২৫ জন আহত হন।
ওই হামলার জন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করেন ছাত্রজোটের নেতারা।
প্রতক্ষ্যদর্শীরা তখন বলেছিলেন, নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনের বিরোধিতা করে মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল। তবে সকাল থেকে রাজু ভাস্কর্য এলাকায় অবস্থান নেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ছাত্রজোটের ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী টিএসসি চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ হয়ে আবার টিএসসি ফিরে এসে ডাসের সামনে নরেন্দ্র মোদির কুশপুত্তলিকা দাহ করতে থাকেন এবং ভারত বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
ছাত্রজোটের নেতাদের অভিযোগ, এসময় ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী কুশপুত্তলিকায় আগুন নেভানোর জন্য দূর থেকে পানি ছুড়তে থাকেন। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা ছাত্রজোটের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন। জোটের নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে ছাত্রলীগ সংঘবদ্ধ হয়ে আবারও তাদের ওপর হামলা চালায়, তখন দুই পক্ষই সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
প্রসঙ্গত, আজকের বিক্ষোভ থেকে আটক হওয়া রফিকুল ইসলাম রাজধানীর জামিয়া মাদানীয়া বারিধারা মাদরাসায় লেখাপড়া করেছেন। শারীরিক আকৃতিতে ছোট হওয়ায় তাকে সবাই শিশুবক্তা বলেন এবং এ হিসেবেই পরিচিতি পান তিনি। নেত্রকোনা জেলার পশ্চিম বিলাশপুর সাওতুল হেরা মাদরাসার পরিচালক রফিকুল ইসলাম ২০ দলীয় জোটভুক্ত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও রাবেতাতুল ওয়ায়েজিনের সঙ্গে যুক্ত আছেন বলেও জানা যায় । এবং এই ছোট আকৃতির রফিকুল ইসলাম কে হেফাজতে নেতারা নানাভাবে তৈরী করে জ্বালাময়ী ইচরে পাকা মন্তব্য করায় এরই মধ্যে এই রফিকুল ইসলামকে নিয়ে সমালোচনা করতে দেখা গেছে কয়েকটি ইসলামী সংগঠন ।
আর এই বক্তাকে পুঁজি করে নারায়ণগঞ্জের হেফাজত ইসলামীর নেতারা গত ২৪ মার্চ বুধবার শহরের ডিআইটি মসজিদের সামনে এক সড়ক সমাবেশে বক্তব্য দিতে নিয়ে আনা হয় । রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে এই ক্ষুদে বক্তাকে সামনের সারিতে নিয়ে এনে নানা মন্তব্য করাসহ ফায়দা হাসিল বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকেই । দেশের অনেক ইসলামী রাজনৈতিক দলের নেতারা মনে করেছেন এমন ইচরে পাকা শিশু বক্তাকে দিয়ে নানা সরকার ও রাস্ট্র বিরোধী বক্তব্য দিলে এক সময় তাকে গ্রেফতার হবে আর তখন রাজনীতিদতে ফায়দা হাসিল করতেও সহজ হবে, সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে হেফাজতের । এমন মন্তব্য অনেকের ।









Discussion about this post