এ যেন লাশের মিছিল ! শ্বাসরুদ্ধকর অপেক্ষার পর সোমবার দুপুরে শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধারের পর বেড়িয়ে আসছে একের পর এক লাশ।
সকাল থেকে শীতলক্ষ্যায় ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী লঞ্চটি উদ্ধারে কাজ করছিল উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়৷
সোমবার (৫ এপ্রিল) দুপুর সোয়া বারোটার দিকে যখন লঞ্চটি উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হয় তখন ভেতরে কেবল লাশ আর লাশ দেখা গেছে ৷
ইতিমধ্যে ২১ জন শিশু, নারী ও পুরুষের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে৷ এর আগে গতরাতে ৫ নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল ৷
রোববার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে সদর উপজেলার চর সৈয়দপুর এলাকায় একটি কোস্টার জাহাজের ধাক্কায় লঞ্চটি ডুবে যায়। লঞ্চে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিল৷ রাতেই ২৯ জন সাঁতরে তীরে ওঠেন৷ লঞ্চ ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ করছে বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড, দমকল বাহিনী, নৌ ও থানা পুলিশের উদ্ধারকর্মীরা৷
রাতে উদ্ধারকর্মীরা ৫ নারীর লাশ উদ্ধার করেছে বলে জানান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক৷ লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে ৷
নিহতরা হলেন: মুন্সিগঞ্জ সদরের উত্তর চরমসুরার ওয়ালিউল্লাহের স্ত্রী পাখিনা (৪৫), মুন্সিগঞ্জ সদরের প্রীতিময় শর্মার স্ত্রী প্রতিমা শর্মা (৫৩), মালপাড়ার হারাধন সাহার স্ত্রী সুনিতা সাহা (৪০) ও নোয়াগাঁও পূর্বপাড়ার দুখু মিয়ার মেয়ে ছাউদা আক্তার লতা (১৮)৷
এদিকে দুপুর সোয়া বারোটার দিকে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি তীরে আনা হলে ভেতরে লাশ দেখা যায়৷ দুপুর দেড়টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২১টি নতুন লাশ উদ্ধার করা হয়েছে৷
নারায়ণগঞ্জ নৌ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল আলম জানান, চর সৈয়দপুর এলাকায় শীতলক্ষ্যায় নির্মাণাধীন সেতুর কাছাকাছি স্থানে এ ঘটনা ঘটে। একটি কোস্টার জাহাজের ধাক্কায় এম এল সাবিত আল হাসান নামের লঞ্চটি ডুবে যায৷ নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জের দিকে রওয়ানা হয়েছিল ডুবে যাওয়া লঞ্চটি ।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শীতলক্ষ্যা নদীর উপর নির্মাণাধীন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর ১৬ নম্বর পিলারের নিরাপত্তকর্মী মোহাম্মদ হালিম৷ তিনি বলেন, এসকেএল-৩ (এম: ০১২৬৪৩) নামের একটি কোস্টার জাহাজ পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে অন্তত ২০০ মিটার লঞ্চটিকে টেনে নিয়ে যায়৷ এরপর লঞ্চটি যাত্রীসহ ডুবে যায় ৷
এ রিপোর্ট লেখাকালীন সময়ে শীতলক্ষা নদীর তীরে গোগনগরে একের পর এক লাশ উদ্ধার করে সমতল ভূমিতে নিয়ে আনা হচ্ছে উদ্ধারকারী দল । এ পর্যন্ত মোট ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী ডুবুরীরা ।
এমন সারি সারি লাশের দৃম্য দেখে নিজেদের স্বজনকে খুজতে শীতলক্ষার পাড়ে এক হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে শীতলক্ষার পাড় ।









Discussion about this post