স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠের লড়াইয়ের প্রচার প্রচারণা শেষ হয়েছে আজ ২৮ ডিসেম্বর সকালে । এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ । কি হতে পারে ভোটের হিসেব ।
একাই সাথে ২০ লাখ ৩০ হাজার ৭শত ৪ জন ভোটারদের মধ্যে সকলেই এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ৩০ ডিসেম্বর সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্র যাবেন ভোট প্রয়োগ করতে। পাঁচটি আসনে ৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে মূলত লড়াই হবে ১১ জনের মধ্যে । বাকী অন্যন্য প্রার্থীদের অনেকেই জামানতও হারাবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে জেলা জুড়ে।
রূপগঞ্জে কাজী ও গাজীর, আড়াইহাজারে দুই নজরুল, সোনারগাঁয়ে খোকা-কায়সার- মান্নানের, ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জে শামীম বনাম শামীম বিরোধী এবং শহর ও বন্দরে সেলিম ওসমান বনাম ওসমান পরিবার বিরোধীদের মাঝে !
নারায়ণগঞ্জ-১ : গাজী-কাজীর লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শেষ। জেলার সবগুলো উপজেলার চেয়ে রাজধানীর কোলঘেঁষা গুরুত্বপূর্ণ জনপদ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-১ (রুপগঞ্জ) আসন। আধুনিক উপ-শহর পূর্বাচলসহ শিল্প কল-কারখানা সমৃদ্ধ নারায়ণগঞ্জ-১ আসনটি রাজনৈতিক ও অর্থনেতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান । আর মহাজোটের প্রার্থী আওয়ামী লীগের গোলাম দস্তগীর গাজী। নির্বাচনে অংশ নেয়া ৭জন প্রার্থীর মধ্যে এই দুই প্রার্থী তুলনামূলকভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বেশি সময় পার করছেন। তবে অন্যান্য দলের প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণাও চোখে পড়ার মতো।
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে মোট ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৬৫৬ জন ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৩৯২ জন পুরুষ ভোটার এবং ১ লাখ ৭১ হাজার ২৬৪ জন মহিলা ভোটার। দুই প্রার্থী তাদের প্রচারণায় নানাভাবে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন। প্রার্থীরা নানা কৌশলে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জ- ২ : দুই নজরুলই ভোটের মাঠে নাছোড়বান্দা
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের শেষ ধাপের প্রচার-প্রচারণা চলছে। জেলার সবগুলো উপজেলার চেয়ে পিছিয়ে থাকা প্রত্যন্ত জনপদ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনেরও রাজনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্ব রয়েছে।
এ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বিএনপি’র নজরুর ইসলাম আজাদ । আর মহাজোট আস্থা রেখেছে আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলাম বাবুর উপরই। নির্বাচনে অংশ নেয়া ৪ প্রার্থীর মধ্যে এই দুই প্রার্থী তুলনামূলকভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বেশি সময় পার করছেন। তবে অন্যান্য দলের প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণাও চোখে পড়ার মতো।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে মোট ২ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭৮ জন ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭ জন পুরুষ ভোটার এবং ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৩১ জন মহিলা ভোটার। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে এ আসনের ভোটারের সংখ্যা সবচেয়ে কম। কিন্তু দুই প্রার্থী তাদের প্রচারণায় নানাভাবে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন। প্রার্থীরা নানা কৌশলে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে লড়াই হবে খোকা – কায়সার ও মান্নান, ত্রিমূখী লড়াই
জেলা ভৌগলিক দিক থেকে সোনারগাঁ উপজেলাও অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ । দেশের অর্থনীতিতেও সোনারগাঁ আসনের প্রতি দৃস্টি সকলের । এই আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক সংসদ সদস্য কায়সার হাসনাত আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে ভেটের মাঠে টিকে আছেন বীরের মতো। খোদ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন থেকে সরে যেতে নানাভাবে তাগিদ দিলেও কোনভাবেই টলানো যায় নাই কায়সার হাসনাতকে । সিংহ প্রতীক নিয়ে কায়সার হাসনাত শত প্রতিকূলতায়ও টিকে আছে নির্বাচনে। আর কায়সার হাসনাতকে ঠেকাাতে না পেরে বর্তমান সংসদ সদস্য মহাজোটের প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকা লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে এবং ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী আজহারল ইসলাম মান্নান ধনের শীষের প্রতীক নিয়ে মহা টেনশনে রয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে মোট ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭২ জন ভোটারের মধ্যে ৮২ হাজার নতুন ভোটারেএকাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিশাল ভুমিকা রাখবেন । ভোটের মাঠে প্রশাসনের উপর আস্থা রাখতে সকল প্রার্থীই একমত পোষন করলেও কিছু কিছু ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার সৃস্টি হওয়ায় শাসক দলের প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকা পরেছেন বেকায়দায় ।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে লড়াই হবে শামীম ওসমান বনাম এন্টি শামীমপন্থীদের মাঝে
জেলার অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে (ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জ) শিল্প কলকারখানায় পরিপূর্ণ । আর এই আসনে বরাবরই ওসমান পরিবারের কনিস্ট পুত্র সংসদ সদস্য শামীম ওসমান জেলার আওয়ামীলীগের রাজনীতির নিয়ন্ত্রক । রাজনৈতিক কারিগর শামীম ওসমান তার নির্বাচনী এলাকায় বিশাল জনপ্রিয়তা থাকলেও শামীম বিরোধী একটি বিশাল অংশ রয়েছে । যার কারণে কোন রাজনৈতিক বলয় নারায়ণগঞ্জে না থাকলেও ধানের শীষের প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমী বোটারদের মাঝে নাড়া ফেলে দিয়েছে । জেলায় সম্পূর্ণ অপরিচিত মনির হোসেন কাশেমীনারায়ণগঞ্জের পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ সাবেক এমপি গিয়াস ও ব্যবসায়ী শাহ আলমকে টেক্কা দেয় হঠাৎ করে এক্যৈফ্রন্টের মনোনয়ন ছিনিয়ে এনে চমক সৃস্টি করেন তিনে । সকলের একই প্রশ্ন কে এই কাশেমী ? কি করে কাশেমী হেভীওয়েট প্রার্থীদের টপকিয়ে নির্বাচন করতে এসেছেন ?
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ৬ লাখ ৫১ হাজার ১শ ৩৭ জন ভোটারের মধ্যে কাশেমীর নিজস্ব কোন ভোট ব্যাংক না থাকলেও সংসদ সদস্য মামীম ওসমানের রয়েছে বিশাল জনপ্রিয়তা। তারপরও শংকায় রয়েছে শামীম ওসমান ও তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা। কারণ শামীম ওসমান বিরোধী ভোটারের সংখ্যও কোন অংশেই কম না । একই সাথে রয়েছে বিএনপির বিশাল ভোটব্যাংক । যা এক সাথে কাজ করলে হেভিওয়েট শামীম ওসমান ধরাশায়ীও হতে পারেন ভোটের ফলাফলে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে লড়াই হবে সেলিম ওসমান ও এসএম আকরামের পুরানো লড়াই
জেলার শহর ও বন্দর নিয়ে এই আসনে এর আগেও উপ নির্বাচনে সেলিম ওসমানের সাথে এসএম আকরাম আওয়ামীলীগের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচন করে পরাজিত হন। এবারের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এসএম আকরাম ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠের লড়াইয়ে নেমেছেন। এসএম আকরামের পাশে বিএনপি ছাড়া অন্য কোন রাজনৈতিক দলের লোকজনদের দেখা না গেলেও খোদ আওয়ামীলীগ ও বাম রাজনৈতিক দলের অনেকে জোড়ালোভাবে মাঠে রয়েছে এসএম আকরামের পক্ষে।
নরায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের মধ্যে ওসমান পরিবার পন্থী আর ওসমান পরিবার বিরোধীরা বিশাল শক্তি নিয়ে ভোটের মাঠে লড়াই করে আসছে দীর্ঘদিন যাবৎ। জেরার সদর আসনে ৪ লাখ ৪২ হাজার ২শত ২৬ জন ভোটারের মধ্যে নিবর ভোটারের সংখ্যা অনেক। ভোটের মাঠে কি হয় তা এখনই বলতে পারছেন না কেউ ।








Discussion about this post