ব্যাপক সমালোচনার পর এবার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে টিকিট প্রতি ৪৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের পরিবহন মালিকদের সঙ্গে সভা শেষে জেলা প্রশাসন এ ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়।
এর আগে, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ রুটে চলাচলকারী কয়েকটি পরিবহন বাস ভাড়া টিকিটপ্রতি ৩৬ টাকার পরিবর্তে ১৪ টাকা বাড়িয়ে ৫০ টাকা আদায় করে আসছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জের পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মঙ্গলবার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোসা. রহিমা আক্তারের নেতৃত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পরিবহনের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ৫০ টাকা থেকে পাঁচ টাকা কমিয়ে ৪৫ টাকা করে ভাড়া আদায়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোসা. রহিমা আক্তার সাংবাদিকদেরে বলেন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বাসগুলো আগে ৩৬ টাকা ভাড়া আদায় করতো । সেখানে ৩১ টাকা ভাড়া এবং টোল ফি হিসেবে আরও পাঁচ টাকা করে নেওয়া হতো। কিন্তু জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানো হলে কয়েকটি পরিবহন ৫০ টাকা করে ভাড়ায় আদায় করছিল। আজ সভা করে ৪৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
বন্ধন পরিবহনের চেয়ারম্যান মো. জুয়েল হোসেন জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের ভাড়া ৫০ টাকা থেকে ৪৫ টাকা করা হয়েছে। এখন থেকে ৪৫ টাকা করেই নেওয়া হবে।
তবে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বী বলেন, আমরা যে হিসেব করেছি, সে অনুযায়ী এ রুটে সর্বোচ্চ ভাড়া আসে ৩৮ টাকা ৫২ পয়সা। জেলা প্রশাসকের কাছে বলেছিলাম, ভাড়া নির্ধারণের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের দূরত্ব নির্ধারণ করতে হবে। দূরত্ব নির্ধারণ না করে ভাড়া নির্ধারণ করা যাবে না।
জেলা প্রশাসেন দপ্তর থেকে বেড়িয়ে নাম প্রকাশ না করার বিশেষ অনুরোধে এক পরিবহণ ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৫০ টাকার ভাড়া কমিয়ে ৪৫ টাকা নির্ধারণ করলো । কিন্তু তাতে কোন সাধারণ পরিবহণ মালিকের লাভ হবে ? একেকজন গাড়ির মালিকের বোবা কান্না কে দেখে ? গণপরিবহণে গণ অনিয়ম চলে আসছে আজীবন ধরেই। এমন অনিয়মের প্রতিবাদ করলেই গাড়ী সাইড কইরা পচাইয়া ছাইড়া দিবো। কপাল থাবরাইয়াও কুল পাইবো না কেউ । তাই প্রতিবাদ করার সাহস করে না কেউ । এই ভাড়ার ভাগবাটোয়ার সমানভাবে হচ্ছে না বলেও জোড়ালো অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন যাবৎ। ইচ্ছে মাফিক যা খুশি তা ই করে চলেছে নারায়ণগঞ্জ থেকে চলাচলরত গণপরিবহণ। বন্ধন বলে, উৎসব বলেন, আর বন্ধু পরিবহণ ই বলেন, এই পরিবহণের বিশাল কাঁচা টাকার ভাগবাটোয়ারা হয় এক জায়গা থেকেই । এই পরিবহণের টাকার কোন এক নেতা কাশিপুরে একাদিক বহুতল ভবন করেছেন বলে পুরো জেলায় চাউর থাকলেও কে এমন জোড়ালো অভিযোগর বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলবে ?
এতো অনিয়ম ছাড়াও আইনশৃংখলা বহিনীর কর্মকান্ড নিয়ে কথা বলতেও ভয় হয় মন্তব্য করে ওই পরিবহণ ব্যবসায়ী প্রতিবেদকের সাথে আলোচনার এক পর্যায়ে আরো বলেন, প্রতিদিন শহরের ২নং রেল গেইট এলাকায় যেখানে কোন অটো রিকসাকে চাঁদা ছাড়া এক মিনিটের জন্য দাড়াতেই পারে না, যেখানে কোন মটর সাইকেল হেলমেট বিহীন এই সড়ক অতিক্রম করলেই মামলার খড়গ নেমে আসে অথবা চাঁদা দিতে বাধ্য হয়, সেখানে সারাদিন বন্ধন, উৎসব. বন্ধু সহ বিভিন্ন গণপরিবহণ কি করে দুটি পৃথক সড়ক পুরোপুরি দখল করে রীতিমতো কাউন্টার বসিয়ে পরিবহণ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে । এমন অভিযোগের আঙ্গল রয়েছে জেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে । এমন অবৈধ কাউন্টারের বিষয়ে কেউ কোন কথা বলতে চায় না । ফলে নগরবাসীর ভোগান্তি তো থাকবেই ।









Discussion about this post