নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীর দখল করে বিশাল মার্কেট বানিয়েছেন জাকির শাহ নামে কথিত এক পীর। জানা গেছে, নদী উদ্ধারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নোটিশ পাওয়ার পর ওই পীরের ‘কেরামতি’তে রাতারাতি সেখানে মার্কেট গড়ে ওঠে । যদিও জাকির শাহ‘র দাবি, ওই জায়গার মালিক তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের পর গত বছরের নভেম্বরে বিআইডব্লিউটিএ শীতলক্ষ্যা নদীর তীর চিহ্নিত করে সীমানা পিলার স্থাপনের কাজ শুরু করে। তখন হঠাৎই বন্দরে শীতলক্ষ্যার পূর্ব তীরবর্তী ২০ শতাংশ জায়গা নিজের বলে দাবি করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন পীর জাকির শাহ। তখন আদালত ওই জমির ওপর স্থিতাবস্থা দেন। পরবর্তী সময়ে করোনা পরিস্থিতির কারণে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ থাকে। গত বছরের শেষ দিকে ফের নদী তীর থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়। দখলদার জাকির শাহকে গত বছরের ২৯ অক্টোবর বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে জমি ছেড়ে দিতে বলা হয়। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএকে থোড়াই কেয়ার করেন এই পীর। চিঠি পাওয়ার পর রাতারাতি সেখানে মার্কেট নির্মাণ করেন। পরবর্তী সময়ে বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে ওই জমির ওপর দেওয়া স্থিতাবস্থা খারিজের আবেদন করলে উচ্চ আদালত জাকির শাহর রিট খারিজ করে দেন। বিআইডব্লিউটিএর নোটিশ পাওয়ার পর জাকির শাহ বন্দর থানার গঙ্গাকূল ‘ম’ খণ্ড মৌজায় শীতলক্ষ্যা নদী তীরের ওই জমির ওপর নির্মাণ করেছেন ‘যুবরাজ মার্কেট’।
সরেজমিন দেখা গেছে, বিআইডব্লিউটিএর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নোটিশ সংবলিত সাইনবোর্ড বহাল রয়েছে। জাকির শাহর নির্মিত মার্কেটে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছেন তার অনুসারীরা। জাকির শাহ দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় যুবলীগের এক নেতাকে বিনামূল্যে মার্কেটের এক কোণে একটি দোকানও বরাদ্দ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। নদীর তীর চিহ্নিত ওই জমি থেকে তাকে উচ্ছেদ করতে নোটিশ দেওয়া হলেও কাজ হয়নি। পীর জাকির শাহর বিরুদ্ধে বন্দরের সমরক্ষেত্রের পাশে রেলওয়ের জমি দখলে রাখারও অভিযোগ আছে।
বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক (বন্দর) শেখ মাসুদ কামাল বলেন, ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে সিএস জরিপ অনুযায়ী নদীর সীমানা উদ্ধারের নির্দেশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নদী তীরে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। ওই সময় নদীর তীরবর্তী ২০ শতাংশ বা তার বেশি জমি নিজের দাবি করে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেন জাকির শাহ। পরে তার রিট খারিজ করে দেন আদালত। জাকির শাহ যখন আদালতে রিট করেছিলেন, সে সময় ওই জায়গায় কোনো স্থাপনা ছিল না।
( সূত্র সমকাল )









Discussion about this post